ঈশ্বরদীতে লিচুর মুকুল থেকে মধু সংগ্রহে রেকর্ড

ঈশ্বরদীতে লিচুর মুকুল থেকে মধু সংগ্রহে রেকর্ড

মো. হাসান ইসলাম, ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার ঈশ্বরদীতে চলতি মৌসুমে লিচুর মুকুল থেকে রেকর্ড পরিমাণ মধু সংগ্রহ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও মৌসুমি মধু চাষিদের তথ্যমতে, কেবল চলতি মাসেই এ অঞ্চল থেকে প্রায় ২৩.৪৬ মেট্রিক টন মধু সংগৃহীত হয়েছে, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে লিচুর ফুল থেকে মধু চাষের আওতায় মোট জমির পরিমাণ ছিল ১,৫৭৫ হেক্টর। বিস্তৃত এই বাগানগুলোতে ব্যবহৃত মৌমাছির বাক্সের সংখ্যা ছিল ১২,৩১০টি

  • মোট সংগৃহীত মধু: ২৩,৪৬০ কেজি (২৩.৪৬ মেট্রিক টন)।

  • বর্তমান বাজার মূল্য: প্রায় ৭০ লাখ ৩৮ হাজার টাকা।

উপজেলার সলিমপুর, সাহাপুর, দাশুড়িয়া এবং পাকশী ইউনিয়নের বিস্তৃত এলাকায় ছোট-বড় মোট ১১,২৭০টি লিচুর বাগান রয়েছে। এসব বাগান মৌসুমি মধু চাষিদের কাছে আদর্শ বিচরণক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। চাটমোহর থেকে আসা মধু চাষি মোহাম্মদ আলী জানান, জয়নগর প্রামাণিক পাড়া এলাকায় ৩০০ বক্স নিয়ে তিনি কাজ করছেন। এ বছর তার সংগ্রহ হয়েছে প্রায় ৩ টন মধু, যার বাজার মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা।

তিনি আরও জানান, বছরে প্রায় ৭ মাস ধরে মধু সংগ্রহের কর্মযজ্ঞ চলে। লিচু ফুল বাদেও আম, সরিষা, কালোজিরা, ধনিয়া ও শিমুল ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করা হয়। তবে বাকি সময় প্রকৃতিতে ফুল না থাকায় মৌমাছিদের কৃত্রিম খাবার দিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে হয়।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল মোমিন জানান, "এ বছর ঈশ্বরদীতে আম এবং লিচুর মুকুল রেকর্ড হারে এসেছে। বেশি ফুল থাকায় মধু আহরণও বেশি হয়েছে। স্থানীয় ১০-১২ জন মৌচাষি ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেক চাষি এবার ঈশ্বরদীতে এসেছেন।"

তিনি আরও যোগ করেন, এই বিপুল পরিমাণ মধু সংগ্রহ স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং মধু চাষে তরুণদের আরও আগ্রহী করে তুলবে।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন