টাকা লেনদেনের অভিযোগে পীরগাছায় আনসার নিয়োগ প্রক্রিয়া বিতর্কিত

টাকা লেনদেনের অভিযোগে পীরগাছায় আনসার নিয়োগ প্রক্রিয়া বিতর্কিত

হাবিবুর রহমান হাবিব, পীরগাছা (রংপুর): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় আনসার ও ভিডিপি সদস্য নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ প্রদান এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের বাদ দিয়ে অপ্রশিক্ষিতদের তালিকাভুক্ত করার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ছাওলা ইউনিয়নের পশ্চিম ব্রাহ্মণীকুন্ডা এলাকার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্য নাছিমা বেগম অভিযোগ করেন, ভোটের ডিউটি পাওয়ার আশায় তিনি পারুল ইউনিয়নের আনসার ভিডিপি কমান্ডার বেলালকে নিজেরসহ আরও তিনজনের জন্য মোট ৪ হাজার টাকা দিয়েছেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর থেকে ওই কমান্ডার আর যোগাযোগ করছেন না। অসহায় নাছিমা বেগম বলেন, "ডিউটি পেলে কিছু টাকা পেতাম, সংসারে সহায়তা হতো। কিন্তু টাকা নেওয়ার পরও আমাদের ডিউটি দেওয়া হয়নি।"

একইভাবে পারুল ইউনিয়নের বাবলু মিয়া জানান, বৈধ সনদ থাকা সত্ত্বেও তাকে ডিউটি দেওয়া হয়নি। তার দাবি, যারা টাকা দিতে পেরেছে, প্রশিক্ষণ না থাকলেও তাদের ডিউটিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

পীরগাছা উপজেলার ৯০টি ভোট কেন্দ্রে নিরাপত্তার জন্য ৯০ জন সেকশন কমান্ডার, ৯০ জন সহকারী সেকশন কমান্ডার, ৫৪০ জন পুরুষ ভিডিপি এবং ৩৬০ জন নারী ভিডিপিসহ এক হাজারের বেশি সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই বিশাল জনবল নিয়োগে স্বচ্ছতা না থাকায় নির্বাচনী নিরাপত্তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।

অভিযুক্ত কমান্ডার বেলালের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা সুজন অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী হয়েছে। দালাল চক্রের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবাশীষ বসাক জানান, আনসার নিয়োগে কোনো দুর্নীতির সুযোগ নেই। সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়রা এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।

মন্তব্য করুন