ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
শিক্ষা প্রতিবেদক, ঢাকা: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির ক্ষেত্রে ডিজিটাল লটারি প্রথা বাতিলের সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদরা। সেন্ট জোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, লটারি বাতিলের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশে পুনরায় কোচিং ও ভর্তি বাণিজ্য মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে এক অসুস্থ প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হবে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ভর্তি পরীক্ষার নেতিবাচক দিকগুলো সম্পর্কে সতর্ক করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের একটি পরিণত বয়সে পৌঁছানোর পর, যেমন ক্যাডেট কলেজগুলোর মতো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে জোরালো মত দেন।
ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীরের মতে, লটারি প্রথা বাতিল করে পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত নেতিবাচক। এই সিদ্ধান্তের ফলে শিশু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে নামিদামি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য এক অসুস্থ লড়াই শুরু হবে, যা শিশুদের স্বাভাবিক মানসিক বিকাশে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। একইসঙ্গে দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো ভর্তি কোচিং বাণিজ্য গড়ে উঠবে বলে তিনি সতর্ক করেন। তিনি জানান, লটারি পদ্ধতিতে ভর্তির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সুবিধা ছিল এর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। কেন্দ্রীয়ভাবে লটারি হওয়ার কারণে সেখানে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা আর্থিক লেনদেনের সুযোগ ছিল না। ফলে অভিভাবকেরা একটি আস্থার জায়গা পেয়েছিলেন এবং সব মেধার শিক্ষার্থী সমান সুযোগ পেত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো যদি বাছাই করে শুধু সেরাদেরই ভর্তি করে, তবে তাদের কৃতিত্ব কোথায়? সব ধরনের মেধার শিক্ষার্থীকে গ্রহণ করে তাদের বিকশিত করার সুযোগ করে দেওয়াই একটি প্রকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাজ। শুধুমাত্র সেরাদের নিয়ে শ্রেণি তৈরি করলে সমাজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে একধরনের অহংবোধ ও বিভাজন তৈরি হয়।
দীর্ঘ ১৪ বছর সেন্ট গ্রেগরিজ স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতার অতীত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ড. কবীর জানান, সেখানে প্রথম শ্রেণিতে মাত্র ১৮০টি আসনের বিপরীতে ৩ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিত। ভর্তি কোচিংয়ের পেছনে অভিভাবকদের বছরে প্রায় ২৪ হাজার টাকা ব্যয় করতে হতো। এত প্রস্তুতির পরও যখন কোনো শিশু ভর্তি হতে পারত না, তখন তা শিশু ও অভিভাবক উভয়ের জন্যই চরম মানসিক বিপর্যয়ের (ট্রমা) কারণ হতো। তিনি গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এখন যদি প্রতিটি স্কুল নিজেদের মতো করে আলাদাভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ পায়, তবে সেখানে কেন্দ্রীয় কোনো নিয়ন্ত্রণ বা নজরদারি থাকবে না। এর ফলে পুনরায় রমরমা ভর্তি বাণিজ্য, ডোনেশনের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং প্রভাবশালীদের সন্তানদের অনৈতিকভাবে ভর্তির মতো নানাবিধ অনিয়ম ফিরে আসার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ভর্তি পরীক্ষা নিতেই হলে প্রশ্নপত্র তৈরি, খাতা মূল্যায়ন এবং চূড়ান্ত মেধা তালিকা প্রকাশসহ প্রতিটি ধাপে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সরকারের কঠোর তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানান এই শিক্ষাবিদ।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ