যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সর্বনিম্ন ১০% শুল্ক তালিকায় বাংলাদেশ: তৈরি পোশাক খাতে স্বস্তি

প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৭ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সর্বনিম্ন ১০% শুল্ক তালিকায় বাংলাদেশ: তৈরি পোশাক খাতে স্বস্তি
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ট্যারিফ নীতিতে স্বস্তিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত।

জাতীয় প্রধান: যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ঘোষিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ট্যারিফ নীতিতে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া সব ধরনের পণ্যের ওপর সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে ৮৬টি দেশের মধ্যে মাত্র যে ১৭টি দেশকে এই সর্বনিম্ন শুল্কহারের আওতায় রাখা হয়েছে, বাংলাদেশ তার অন্যতম। সরকারের আশা, এর ফলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য প্রধান রপ্তানি পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আগের চেয়ে অনেক বেশি সুদৃঢ় হবে।

আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই স্বস্তিদায়ক তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাদের ট্রেড অ্যাক্ট-১৯৭৪-এর সেকশন ৩০১ অনুযায়ী বিশ্বজুড়ে ৮৬টি দেশের সংগে সম্পর্কিত ৬০টি অর্থনীতির জন্য নতুন সমন্বিত ট্যারিফ কাঠামো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর) আন্তর্জাতিক জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের অভিযোগসংক্রান্ত দীর্ঘ তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন শেষে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ওয়াশিংটন ডিসি সময় ২৪ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিট থেকেই নতুন এই শুল্ক আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।

নতুন এই নীতিমালায় দেশভেদে অতিরিক্ত শুল্কহার সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইতিপূর্বে সাময়িকভাবে বহাল থাকা ১০ শতাংশ বৈশ্বিক সমরূপ শুল্কব্যবস্থাকে প্রতিস্থাপন করা হলো।

ঘোষিত কাঠামো অনুসারে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আরোপিত ১০ শতাংশ ট্যারিফ যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া সব রপ্তানি পণ্যের ওপর বলবৎ হবে। তবে এটি পূর্বে বিদ্যমান ‘মোস্ট ফেভার্ড নেশন’ (এমএফএন) সাধারণ শুল্কহারের অতিরিক্ত অতিরিক্ত হিসেবে হিসাব করা হবে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের ৮৬টি দেশের বড় পরিমণ্ডলে মাত্র ১৭টি দেশ সর্বনিম্ন ১০ শতাংশের তালিকায় জায়গা পেয়েছে। পক্ষান্তরে, তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও প্রতিযোগী দেশ—চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১২.৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে। ফলে মার্কিন বাজারে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাণিজ্যিক দিক থেকে সুবিধাজনক স্থানে থাকবে বাংলাদেশ।

এদিকে, বাংলাদেশসহ বিশ্বের মাত্র চারটি দেশের জন্য তিন বছর মেয়াদি বিশেষ ‘ট্যারিফ-রেট কোটা’ (টিআরকিউ) চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সংগে বিবেচনা করছে ইউএসটিআর। এটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় উৎপাদিত যেসব পোশাক ও টেক্সটাইল সামগ্রীতে মার্কিন তুলা বা কাঁচামাল ব্যবহৃত হবে, সেসব পণ্যে সেকশন ৩০১-এর অতিরিক্ত শুল্ক থেকে শতভাগ ছাড় বা বিশেষ সুবিধা পাওয়ার নতুন পথ তৈরি হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করেছে যে, কর্মপরিবেশ ও আন্তর্জাতিক শ্রমমান নিশ্চিত করা, তৈরি পোশাকসহ মূল রপ্তানি খাতের সার্বিক কমপ্লায়েন্স বজায় রাখা এবং টেকসই বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধিতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে বাংলাদেশ সুদৃঢ় যৌথ সহযোগিতা বজায় রেখে কাজ চালিয়ে যাবে।

মন্তব্য করুন