ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রযুক্তি ডেস্ক: উন্নত তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং এবং উদীয়মান সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বাংলাদেশের ঈর্ষণীয় সক্ষমতা চমৎকারভাবে তুলে ধরেছে ড্যাফোডিল গ্রুপ।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই) ঢাকার আগারগাঁওয়ে ভাসানী নভোথিয়েটারে আয়োজিত ‘সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট ২০২৬’-এ ড্যাফোডিল গ্রুপ শিক্ষা, গবেষণা, শিল্প এবং উদ্ভাবনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা তাদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ইকোসিস্টেম প্রদর্শন করে।
সম্মেলনে আয়োজিত ‘ড্যাফোডিল কম্পিউটারস প্যাভিলিয়ন’ আনুষ্ঠানিকভাবে পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তাঁর সংগে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, আইসিটি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ সচিববৃন্দ।
প্যাভিলিয়ন পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী ড্যাফোডিলের বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তিগত উদ্যোগ, বিশেষ করে ‘ডিসিএল হাই-টেক’-এর দেশীয় ল্যাপটপ ও আইসিটি হার্ডওয়্যার উৎপাদন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং প্রতিষ্ঠানের মানসম্মত উৎপাদন সক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করেন। ড্যাফোডিলের এই প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী এসব প্রযুক্তি পণ্যকে গর্বের সংগে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডিংয়ে বিশ্ববাজারে তুলে ধরার ওপর জোর দেন।
পরিদর্শনের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর সংগে ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের এক সৌজন্য মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ড. মো. সবুর খান ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রকল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানের কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, এসব শিক্ষার্থী-বান্ধব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি নানা উন্নয়ন কার্যক্রম স্বল্প খরচে ও কার্যকরভাবে রূপায়ণ করা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী বিষটিতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং উপস্থিত মন্ত্রী ও উপদেষ্টারাও এর সংগে একমত পোষণ করেন।
কথা প্রসঙ্গে ড. মো. সবুর খান প্রধানমন্ত্রীকে ‘ড্যাফোডিল হাই-টেক পার্ক’ পরিদর্শনের ভাবগম্ভীর আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচ্ছন্দে এ আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন। একই সংগে দেশের আইসিটি খাতকে বেগবান করতে ২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিষ্ঠিত ‘আইসিটি টাস্কফোর্স’ পুনরায় সক্রিয় করার প্রস্তাব তুললে প্রধানমন্ত্রী তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন।
প্যাভিলিয়নের প্রধান আকর্ষণসমূহ:
ডিসিএল হাই-টেক (DCL Hi-Tech): আধুনিক ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনে সারফেস মাউন্ট প্রযুক্তি (SMT), পিসিবি (PCB) সংযোজন ও গুণগত মান নিশ্চিতকরণের প্রক্রিয়া তুলে ধরা হয়।
ড্যাফোডিল রোবোটিক্স (Daffodil Robotics): রোবোটিক্স, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি, এমবেডেড সিস্টেম এবং শিক্ষার্থীদের তৈরি ইন্ডাস্ট্রি-সহায়ক এআই প্রজেক্ট স্থান পায়।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (DIU): এআই, আইওটি (IoT), সাইবার সিকিউরিটি, এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটি (XR) এবং জয়েন্ট রিসার্চের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির পদক্ষেপসমূহ উপস্থাপন করা হয়।
ড্যাফোডিল সফটওয়্যার: প্রশাসনিক গতিশীলতায় ব্যবহৃত ‘এআই প্রফেসর’, ‘সেন্ট্রাল এআই’ ও ‘আইইউএমএস (IUMS)’ সফটওয়্যার প্রদর্শন করা হয়।
সামিটে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ড্যাফোডিল কম্পিউটারস দেশি-বিদেশি নীতিনির্ধারক, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সংগে যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া অংশীদারিত্বের এক নতুন সম্ভাবনার সুযোগ উন্মোচন করেছে।
|