পতিত সরকার শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে চুরমার করেছে: আল মাহমুদ তিতুমীর
জাতীয় প্রধান: বিগত পতিত স্বৈরাচারী সরকার দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ভেঙে চুরমার করে দিয়ে গেছে বলে তীব্র মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা ‘জনমিতিক লভ্যাংশ’ অর্জন যেখানে দেশের মূল লক্ষ্য হওয়ার কথা ছিল, সেখানে তরুণ সমাজকে একটি বড় জাতীয় ‘জনমিতিক বোঝা’য় রূপান্তর করে পতিত সরকার দেশ থেকে পালিয়ে গেছে।
গতকাল শনিবার (২৫ জুলাই) বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, "আমাদের প্রতি চারজন নাগরিকের একজন ছিলেন উদ্যমী যুবক। কিন্তু এই বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর না করে শিক্ষিত বেকারত্বের হার বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের একজন শিক্ষার্থী সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থায় টানা ১২টি শ্রেণি সম্পন্ন করলেও আন্তর্জাতিক মানে তার অবস্থান নেমে যায় পাঁচ ধাপ নিচে। বিশেষ করে ২০২০ সাল থেকে এই গভীর শিক্ষাসংকট আরও প্রকট ও ঘনীভূত হয়েছে।"
উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, "বর্তমানে দেশে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, উপযুক্ত কর্মসংস্থান এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ নেই—এমন নিষ্ক্রিয় মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মোট ৪১ শতাংশে, যার মধ্যে বিশাল বড় অংশই নারী (প্রায় ৬২ শতাংশ)। এই ভয়াবহ বিপর্যয় ও স্থবিরতা থেকে জাতিকে দ্রুত উত্তরণ ঘটাতে হবে।"
বর্তমান সরকারের নেওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করেই শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের ভঙ্গুর দশা কাটাতে বাজেট বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় বাজেটের শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ২ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য খাতে ২.৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। আমরা শিক্ষায় আমূল ও গুণগত পরিবর্তন আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"
নারীর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা প্রসঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, "মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার শাসননামলেই দেশের আনুষ্ঠানিক খাতে নারীদের ব্যাপক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পায়, যা আমাদের জাতীয় রপ্তানি বাণিজ্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্প চালু করেছেন, কারণ আমরা সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীর টেকসই অগ্রগতি দেখতে চাই।"
উক্ত বিশেষ সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসেন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বখতিয়ার উদ্দীন এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার খন্দকার নাজমুল হাসান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. কে. এম. মুস্তাফিজুর রহমান। সেমিনারে অনুষদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
|