ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জামায়াত নেতার রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা
বিশেষ সংবাদদাতা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সব ধরনের দলীয় পদ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন এক স্থানীয় নেতা।
গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) রাতে পটুয়াখালীর মহিপুর সদর ইউনিয়নের নিজামপুর ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান কিয়াম গাজী নিজের ফেসবুক আইডিতে এই পদত্যাগের বার্তা পোস্ট করেন। সম্প্রতি বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন ও আলোচনার সৃষ্টি হয়।
প্রকাশিত বিবৃতিতে খলিলুর রহমান কিয়াম গাজী উল্লেখ করেন, তিনি এতদিন ন্যায়, ইনসাফ ও নৈতিক মূল্যবোধ বজায় রেখেই রাজনীতি করার সচেষ্ট চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠনের উচ্চপর্যায়ের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের নানা অভিযোগ তাঁর দৃষ্টিগোচর হয়েছে, যা তাঁর ব্যক্তিগত নীতি-আদর্শ ও বিশ্বাসের সঙ্গে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। আর সে কারণেই তিনি দলীয় সব সম্পর্ক ছিন্নের পথ বেছে নিয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, সচেতনভাবেই তিনি পোস্টে ‘ইসলাম’ শব্দটি এড়িয়ে গেছেন। কারণ তাঁর মতে, কোনো দল বা ব্যক্তির নামের সঙ্গে ‘ইসলাম’ যুক্ত থাকলেই সেটি প্রকৃত ইসলামী আদর্শকে নির্দেশ করে না; মানুষের প্রকৃত মূল্যায়ন হয় তাঁর কর্ম ও চরিত্রের মাধ্যমে। একই সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তাঁর কোনো আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা চেয়ে সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন তিনি।
এ বিষয়ে মহিপুর সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির তোফাজ্জল হোসেন সিপাহি জানান, "গত ৫ আগস্টের পর খলিলুর রহমানের সঙ্গে আমাদের সাংগঠনিক পরিচয় হয়। তিনি টানা ২-৩ মাস সক্রিয় থাকলেও পরবর্তী সময়ে দলীয় কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেননি এবং যোগাযোগও বন্ধ করে দেন।"
ইউনিয়ন জামায়াত আমিরের দাবি, খলিলুর রহমানের ব্যক্তিগত জমিজমা ও আর্থিক পাওনা সংক্রান্ত কিছু বিরোধ ছিল, যা সামাজিকভাবে সুরাহা করা সম্ভব হয়নি এবং দল থেকেও সেই দায়িত্ব নেওয়া হয়নি। মূলত এসব ব্যক্তিগত কারণেই তিনি সংগঠন থেকে দূরে সরে গেছেন বলে তিনি ধারণা করছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, খলিলুর রহমান এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দেননি। তাঁর ফেসবুক বার্তার বিষয়টি পর্যালোচনা করে দলীয় দায়িত্বশীলরা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
এআইএল/সকালবেলা
|