সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে যত বিতর্ক

প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৪ অপরাহ্ণ
সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে যত বিতর্ক
দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। (ছবি: সংজ্ঞগৃহীত)

জাতীয় প্রধান: ২০২৩ সালে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর থেকে আজ পদত্যাগের দিন পর্যন্ত একের পর এক ঘটনার কারণে সবসময়ই জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। মনোনয়ন ও নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য এবং সর্বশেষ চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনা—সব মিলিয়ে তাঁর পুরো মেয়াদকালই ছিল রাজনৈতিক জলঘোলা ও নানামুখী বিতর্কে ভরা।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন ও জেলা সফর বিতর্ক

২০২৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার মো. সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য মনোনীত করে। শেষদিন পর্যন্ত অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় নির্বাচন কমিশন তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করে। রাজনৈতিক অঙ্গনের হেভিওয়েট কোনো নেতার বদলে একজন সাবেক বিচারক ও আমলাকে রাষ্ট্রপ্রধান করায় খোদ ক্ষমতাসীন দলের ভেতরেই অসন্তোষ দেখা দেয়। পরবর্তীতে নিজ জেলা পাবনা সফরে গিয়ে নিজেকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দিলে নতুন বিতর্কের সূচনা হয়।

শেখ হাসিনার পা ছুঁয়ে সালাম ও ফেসবুক মন্তব্য

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পরপরই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পা ছুঁয়ে সালাম করার একটি পুরোনো ছবি নতুন করে নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। সমালোচকরা দাবি করেন, রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক নিরপেক্ষ পদের সঙ্গে এমন আচরণ অসঙ্গতিপূর্ণ। তা ছাড়া, উপস্থাপক নবনীতা চৌধুরীর একটি ছবিতে সাহাবুদ্দিনের ব্যক্তিগত আইডি থেকে 'নাইস অ্যান্ড অ্যাট্রাকটিভ' মন্তব্য করার একটি স্ক্রিনশট জনপরিসরে ব্যাপক চ্যাঞ্চল্য ও ট্রোলের সৃষ্টি করে।

তিন সরকারের শপথপাঠ ও পদত্যাগপত্র বিতর্ক

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পর ১১ জানুয়ারি শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ করান তিনি। তবে ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার রাজনৈতিক অভ্যুত্থানের পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও অন্যান্য উপদেষ্টাদেরও শপথ পড়ান সাহাবুদ্দিন। পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকেও শপথবাক্য পাঠ করান তিনি। তবে সরকার পরিবর্তনের পরও তিনি পদে বহাল থাকায় রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়।

সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে ২০২৪ সালের অক্টোবরে, যখন এক সাক্ষাৎকারে সাহাবুদ্দিন দাবি করেন—তাঁর কাছে শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্রের মূল কপি নেই এবং শেখ হাসিনা পদত্যাগ করার মতো সময় পাননি। এই মন্তব্যের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ তৎকালীন রাজনৈতিক দলগুলো রাজপথে নেমে আসে এবং বঙ্গভবন ঘেরাও কর্মসূচি পালিত হয়।

ফোনালাপ ফাঁস ও চূড়ান্ত বিদায়

সর্বশেষ যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা গ্রহণকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংগে তাঁর একটি টেলিফোনিক ফোনালাপ ফাঁস ও আলোচনা সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্যে এলে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়। এর জের ধরেই শেষ পর্যন্ত শারীরিক অসুস্থতার কারণ দর্শিয়ে সাংবিধানিক পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন তিনি।

মন্তব্য করুন