যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বরখাস্ত আইসিসির প্রধান প্রসিকিউটর করিম খান

প্রকাশ: শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:০১ অপরাহ্ণ
যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বরখাস্ত আইসিসির প্রধান প্রসিকিউটর করিম খান
বরখাস্ত হওয়া আইসিসির প্রধান প্রসিকিউটর করিম খান। (ছবি: সংগৃহীত)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যৌন নিপীড়নের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান প্রসিকিউটর করিম খানকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করেছে সংস্থাটির সদস্য রাষ্ট্রগুলো। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পরিচালনা পর্ষদ 'অ্যাসেম্বলি অব স্টেটস পার্টিস'-এর ভোটাভুটিতে তাঁকে বরখাস্তের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে এই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ ‘রাজনৈতিক’ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অন্যায্য বলে দাবি করেছে ৫৬ বছর বয়সি এই ব্রিটিশ ব্যরিস্টারের আইনি দল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম 'আলজাজিরা' এক প্রতিবেদনে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

উল্লেখ্য, গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চরম রাজনৈতিক চাপের মুখে ছিলেন করিম খান।

করিম খানের আইনি দলের প্রধান তাইয়াব আলী জানান, জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ তদারকি পরিষেবা দপ্তরের (ইউএনওআইওএস) সমস্ত তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে বিচারিক প্যানেল সর্বসম্মতভাবে জানিয়েছিল—করিম খান কোনো আইনি কাঠামো বা পেশাগত দায়িত্ব লঙ্ঘন করেননি। আদালতের সেই স্বাধীন তদন্তের ফলাফলকে উপেক্ষা করেই তড়িঘড়ি করে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে। শুনানির কোনো ন্যায্য সুযোগ না দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক চাপের মুখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

অভিযোগ ওঠার দীর্ঘ দুই বছর পর সদস্য রাষ্ট্রগুলো বরখাস্তের সিদ্ধান্তটিতে অনুমোদন দিল। এর আগে গত জুন মাসে তদারকি প্যানেল অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণের কথা জানালে তিনি সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। ‘স্যারা’ ছদ্মনামের এক নারী সংবাদমাধ্যম সিএনএনের কাছে অভিযোগ করেছিলেন, ঘুমের ভান করে থাকার সময় করিম খান তাঁকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করেছিলেন। তবে করিম খান শুরু থেকেই এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে অস্বীকার করে আসছেন।

আইসিসি জানিয়েছে, নতুন প্রধান প্রসিকিউটর নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত করিম খানের জায়গায় ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজহাত শামীন খান এবং মামে মানদিয়ায়ে নিয়াং সাময়িকভাবে দায়িত্ব সামলাবেন। আগামী বছরের পূর্বে নতুন প্রসিকিউটর নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে করিম খানের অপসারণের ফলে নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আইনি বৈধতায় কোনো প্রভাব পড়বে না, কারণ তা প্রত্যাহারের ক্ষমতা কেবল আইসিসির বিচারক প্যানেলের হাতেই রয়েছে।

এদিকে করিম খানের বরখাস্তের খবর প্রকাশ্যে আসতেই উল্লাস প্রকাশ ও আইসিসির তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটার দাবি করেন, নিজের অনৈতিক কর্মকাণ্ড ঢাকা দিতেই করিম খান ইসরায়েলি শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। তিনি আইসিসি-কে একটি ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে এটি বন্ধের দাবি জানান।

অন্যদিকে, নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত ফিলিস্তিনি মিশন ইসরায়েলের এই দাবিকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। আইসিসির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ব্যক্তি পরিবর্তন হলেও যেকোনো অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আদালত সর্বদা নিরপেক্ষ তদন্ত চালিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মন্তব্য করুন