বাবার লাশ দাফন করে রাতে ডিউটি, সকালে পরীক্ষা
মাসুম বিল্লাহ, বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাবাকে শেষ বিদায় জানিয়ে বিকেলে দাফন সম্পন্ন করেছেন। শোকের ভারে ন্যুব্জ পরিবারকে একটু শান্ত করার সুযোগও মেলেনি। রাত নামতেই হাতে বই নিয়ে ছুটতে হয়েছে এটিএম বুথের নাইট ডিউটিতে। কারণ পরিবারের হাল এখন তাঁর কাঁধেই। আর ঠিক পরদিন সকালেই বসতে হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার হলে। একদিকে পিতৃহারা হওয়ার অসহনীয় বেদনা, অন্যদিকে জীবিকার তাগিদ ও ভবিষ্যৎ গড়ার অদম্য সংগ্রাম—বাগেরহাটের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইকনের জীবন যেন এক কঠিন বাস্তবতার গল্প।
বাগেরহাট শহরের মুনিগঞ্জ মেডিকেল স্কুল রোড এলাকার বাসিন্দা সদ্য প্রয়াত ইসরাফিল দাঁড়িয়ে ছোট ছেলে ইকন। বাগেরহাট খান জাহান আলী ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) ভোরে অসুস্থ হয়ে পড়েন ৪৫ বছর বয়সী ইসরাফিল দাঁড়িয়ে। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পেশায় তিনি একজন মোটরসাইকেল চালক ছিলেন। জোহরের নামাজের পর জানাজা শেষে মরদেহ গোপালগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়। বড় ভাই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারালে ছোট ছেলে ইকনই হন পরিবারের একমাত্র ভরসা।
পরিবারের খরচ চালাতে পড়াশোনার পাশাপাশি শহরের রেলরোড এলাকায় কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে রাতের শিফটে খণ্ডকালীন চাকরি করতেন ইকন। মঙ্গলবার বিকেলে বাবার দাফন শেষ করেই রাতে বুথের দায়িত্বে ফিরে যান তিনি। কারণ আজ বুধবার (২২ জুলাই) সকালে ছিল তাঁর এইচএসসি পরীক্ষার ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের পরীক্ষা।
এ বিষয়ে বাগেরহাট খান জাহান আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ খোন্দকার আছিফ উদ্দিন রাখী বলেন, "ইকনের জীবনের এই কঠিন মুহূর্ত আমাদের সবাইকে ব্যথিত করেছে। এত বড় ব্যক্তিগত শোক ও দায়িত্ববোধের মধ্যে পরীক্ষার প্রস্তুতি ও চাকরি চালিয়ে যাওয়া সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। আমরা কলেজ কর্তৃপক্ষ সব সময় তাঁর পাশে আছি।"
স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, পিতৃহারা তরুণ ইকনের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং তাঁর শিক্ষা ও জীবিকার সংগ্রাম সহজ করতে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
এআইএল/সকালবেলা
|