দেশে জ্বালানি তেলের সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুত আছে: জ্বালানি বিভাগ

প্রকাশ: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৭ অপরাহ্ণ
দেশে জ্বালানি তেলের সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুত আছে: জ্বালানি বিভাগ
জ্বালানি তেলের ডিপো থেকে পেট্রোলিয়াম খালাস করা হচ্ছে।

অনলাইন ডেস্ক

বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ধরনের সংকট বা ঘাটতি নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। এই মুহূর্তে দেশে ডিজেলের ৩১ দিনের, অকটেনের ৩৬ দিনের এবং পেট্রোলের ২৫ দিনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে কোনো প্রকার গুজবে কান না দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

আজ বুধবার (২২ জুলাই) জ্বালানি বিভাগের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এবং বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র বলেন, "দেশে বর্তমানে তেলের পর্যাপ্ত মজুত বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও কোনো কোনো অসাধু মহল জ্বালানি তেলের সংকট তৈরি হতে পারে বলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ছড়াচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।"

গ্যাস সরবরাহের বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, "দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের কিছুটা সাময়িক ঘাটতি রয়েছে, তবে নতুন নতুন কূপ খনন ও গ্যাস উত্তোলনের মাধ্যমে এই ঘাটতি দ্রুত মোকাবেলার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে বর্তমান সরকার। মূলত দেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলএনজি ভাসমান টার্মিনালে (এফএসআরইউ) আকস্মিক ও সাময়িক যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সার্বিক গ্যাস সরবরাহে কিছুটা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এই কারিগরি ত্রুটির দ্রত সমাধান করা হচ্ছে। মেরামত কাজ সম্পন্ন হলে শিগগিরই সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ লাইন অনেকটাই কমে আসবে।"

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আন্তর্জাতিক সংঘাত ও যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের কৌশল তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, "সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ ও উত্তেজনা শুরু হলেও বাংলাদেশের ওপর এর কোনো সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব এবার সেভাবে পড়বে না। কারণ বাংলাদেশ প্রক্রিয়াজাত বা পরিশোধিত (রিফাইন্ড) কোনো জ্বালানি তেল মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাক্রান্ত অঞ্চলগুলো থেকে সরাসরি আমদানি করে না। ফলে পরিশোধিত তেল সরবরাহে কোনো ঝুঁকি নেই। অন্যদিকে যেসব দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েল আনা হয়ে থাকে, বিকল্প নিরাপদ সমুদ্রপথ ব্যবহার করে তা দেশে পৌঁছানোর সুনির্দিষ্ট বিকল্প রূপরেখা ও পরিকল্পনা সরকারের ইতোমধ্যে প্রস্তুত রয়েছে।

মন্তব্য করুন