টকশোতে অনেকে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পক্ষে সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করছেন: রিজভী

প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৮ অপরাহ্ণ
টকশোতে অনেকে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পক্ষে সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করছেন: রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার: টকশোতে অনেকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পক্ষে সাফাই গাওয়ার অপচেষ্টা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, "গত ৫ আগস্টের পর এরা আড়ালে চলে গেলেও এখন আবার নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। টকশোতে তাঁরা শেখ হাসিনার শাসনামলের তথাকথিত উন্নয়ন বা একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে কেন রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না—এ ধরনের খোঁড়া যুক্তি তুলে ধরছেন। শেখ হাসিনা যদি এতই বাহাদুর হতেন, তাহলে দেশ ছেড়ে পালালেন কেন? দেশনেত্রী খালেদা জিয়া তো কখনো পালাননি।"

আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মোড়ে ‘যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় প্রচণ্ড চাপ ও হুমকি থাকা সত্ত্বেও খালেদা জিয়া দেশ ছাড়েননি। অথচ ওই সময় শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রে চলে গিয়েছিলেন। এমনকি পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনার শাসনামলেও খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাভোগ করতে হয়েছে, তবুও তিনি কোনো অন্যায়ের কাছে মাথানত করেননি। তিনি আরও বলেন, "শেখ হাসিনা যদি ফিরে এসে রাজনীতি করতে চান, তবে তো ইয়াহিয়া ও টিক্কা খানের উত্তরসূরিদেরও রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে হবে। মানুষ টিক্কা খান ও ইয়াহিয়াকে রক্তপিপাসু হিসেবে চেনে, শেখ হাসিনা কি তাদের চেয়ে কোনো অংশে কম করেছেন? শেখ হাসিনা কতটা নিষ্ঠুর হতে পারেন, তা কারাগারে বন্দি নেতাদের ওপর বর্বর নির্যাতন না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।"

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শেখ হাসিনা এদেশের মানুষের রক্ত ঝরিয়েছেন। ফ্যাসিবাদের গর্ভ থেকে জন্ম নেওয়া কোনো দলকে এভাবে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনা যায় না। তাদের মজ্জাগত চরিত্রেই রয়েছে ফ্যাসিবাদ ও ভয়ংকর রক্তপিপাসুতা। হিটলারের দল যেভাবে জার্মানিতে ফিরতে পারেনি, বাংলাদেশেও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন সম্ভব নয়।

জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি চারণ করে রিজভী বলেন, সেই আন্দোলনের সময়ে যাত্রাবাড়ী ও রায়েরবাগের প্রতিরোধ দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। শ্রাবণের বৃষ্টির মতো যখন চারদিক থেকে গুলি চালানো হচ্ছিল, সেদিন শুধু বিএনপি বা ছাত্রদল নয়, জামায়াত-শিবির, মাদ্রাসার ছাত্রসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ বুক চিতিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। এ সময় অভ্যুত্থান চলাকালীন নিজের গ্রেপ্তার, দফায় দফায় রিমান্ড ও কারাগারে নির্যাতনের বর্ণনা তুলে ধরেন তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, "৫ আগস্টের পর জামায়াত নেতারা বললেন তাঁরা শেখ হাসিনাকে মাফ করে দিয়েছেন এবং ভারতের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার কথা বলছেন। জামায়াত সব সময় ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে গিয়ে নিজেরাই শেষমেশ পানিতে পড়ে যায়। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হত্যাকারী ভারতে পালিয়ে থাকলেও ভারত সরকার তাকে গ্রেপ্তার বা ফেরত দেয়নি। সুতরাং আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার সুরে জামায়াত কথা বললে দেশের সচেতন জনগণ তা কখনোই মেনে নেবে না।" পরিশেষে তিনি সবাইকে সাথে নিয়ে দেশে প্রকৃত গণতান্ত্রিক চর্চাকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন