সিরিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের প্রথম হামলা

প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৪ অপরাহ্ণ
সিরিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের প্রথম হামলা

অনলাইন ডেস্ক:যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতের নতুন সমীকরণে সিরিয়ার অভ্যন্তরে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে প্রথমবারের মতো হামলা চালাল ইরান। শুক্রবার (১৭ জুলাই) দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, তারা সিরিয়ার আল-তানফ (Al-Tanf) এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযান বাহিনীর (Special Operations Forces) একটি শক্তিশালী কমান্ড সেন্টারে বিধ্বংসী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

‘অপারেশন নাসর-২’ ও আল-তানফে হামলা:আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে প্রকাশিত ‘অপারেশন নাসর-২’-এর ১৯তম বুলেটিনে বলা হয়েছে, ইরানশাহরের বাম্পুর এলাকায় নিহত সেনাদের হত্যার প্রতিশোধ নিতে এই অভিযানের ১১তম ধাপে হামলা পরিচালনা করে আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স।

ইরানি বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, আল-তানফে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের মূল কমান্ড সেন্টার, বিশেষ রাডার ব্যবস্থা এবং সেখান থাকা বেশ কয়েকটি সামরিক হেলিকপ্টার ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি এতে বেশ কিছু মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার দাবিও করেছে তারা। তবে স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে বা যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এই হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির দাবির সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

হরমুজ প্রণালিতে তেল সরবরাহ বন্ধের হুঁশিয়ারি:হামলার বিবৃতির পাশাপাশি আইআরজিসি কড়া বার্তা দিয়ে সতর্ক করে জানিয়েছে, বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালির (Strait of Hormuz) সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন তাদের যোদ্ধাদের হাতে। যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন থামানো না হলে এ প্রণালি ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে ‘এক ফোটা তেল বা গ্যাসও রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না’ বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

ইরানে টানা ষষ্ঠ রাতে মার্কিন বাহিনীর হামলা:সিরিয়ায় হামলার জবাবে মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ষষ্ঠ রাতের মতো ধ্বংসাত্মক বিমান হামলা চালিয়েছে। সেন্টকমের ভাষ্যমতে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে ইরানের উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও যুদ্ধজাহাজ থেকে নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।

ইরানি বার্তা সংস্থা ‘ফার্স নিউজ’-এর বরাতে জানা যায়, বন্দর আব্বাস, চাবাহার, কেশম দ্বীপ এবং বন্দর-ই খামির এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণ ঘটেছে। এর মধ্যে হরমোজগান প্রদেশের কৌশলগত বন্দর-ই খামির সংযোগ সেতুতে মার্কিন হামলায় অন্তত ৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৯ জন মারাত্মক আহত হয়েছেন।

মন্তব্য করুন