কাপ্তাই হ্রদে পানি বৃদ্ধি: বিদ্যুৎ উৎপাদনে রেকর্ড, পাহাড়ধসের শঙ্কা
মো. সোহরাওয়ার্দী সাব্বির, রাঙামাটি: কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র—‘কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে’র উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, যা জাতীয় গ্রিডে প্রায় ২০৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। এটি চলতি বছরে এই কেন্দ্রের সর্বোচ্চ উৎপাদন বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্র জানায়, উপত্যকায় টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের ফলে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বর্তমানে ১০০.৬০ ফুট (এমএসএল)-এ পৌঁছেছে। হ্রদের পানির পরিমাণ আরও বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রকৌশলীরা। দীর্ঘ খরা ও পানির স্বল্পতা কাটিয়ে বর্তমানে কেন্দ্রটির সবগুলো ইউনিটই সচল রয়েছে।
তবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই ইতিবাচক খবরের পাশাপাশি জেলাজুড়ে দেখা দিয়েছে নতুন প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও উদ্বেগ। কয়েক দিনের অবিরাম বৃষ্টিতে রাঙামাটির বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকার মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি চরম আকার ধারণ করেছে। ইতিমধ্যে জেলার বেশ কয়েকটি স্থানে সড়ক ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে কিছু পাহাড়ি রুটে যান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, থেমে থেমে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পাহাড়ি ছড়া ও খাল বেয়ে নামা ঢলের পানি হ্রদের পানির স্তরকে দ্রুত বাড়িয়ে তুলছে। এতে করে পাহাড়ের পাদদেশে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসকারী পরিবারগুলোর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ পাহাড়ের পাদদেশে ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং সতর্কবার্তা জারি করেছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলো সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এআইএল/সকালবেলা
|