চার দিনেও চালু হয়নি রামপালের ২ নম্বর ইউনিট ,আসেননি ভারতীয় প্রকৌশলীর
বয়লার অতিরিক্ত গরম হওয়া এবং অভ্যন্তরীণ মারাত্মক কারিগরি ত্রুটির কারণে টানা চার দিন ধরে বন্ধ রয়েছে বাগেরহাটের রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন। ত্রুটি মেরামতের জন্য ভারত থেকে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের আসার কথা থাকলেও তাঁরা এখনও এসে পৌঁছাননি। ফলে ইউনিটটি কবে নাগাদ পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে পারবে, তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।
ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি গত কয়েক মাস ধরে জাতীয় গ্রিডে গড়ে দৈনিক ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছিল। তবে গত রোববার সকালে বয়লার অস্বাভাবিক গরম হওয়া এবং অভ্যন্তরীণ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে ২ নম্বর ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
গুরুত্বপূর্ণ এই ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে কেন্দ্রটির সামগ্রিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট থেকে কমে একলাফে ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটির চলমান পরিস্থিতি ও ভারতীয় প্রকৌশলীদের আগমন নিয়ে জানতে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (বিআইএফসিএল) প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
তবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া ২ নম্বর ইউনিটটি বর্তমানে ‘কুল ডাউন’ বা ঠান্ডা করার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। বয়লার ঠান্ডা হওয়ার পর সার্বিক ত্রুটি নিরূপণ করা সম্ভব হবে। তবে ভারত থেকে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীরা কবে নাগাদ রামপালে পৌঁছাবেন, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত কোনো তথ্য জানাতে পারেননি।
এদিকে রামপাল কেন্দ্রের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসায় জাতীয় গ্রিডে প্রভাব পড়ার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে বাগেরহাট ও আশপাশের জেলাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তীব্র ভ্যাপসা গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিং শুরু হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, সাধারণ গ্রাহক এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো।
বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে দ্রুত ভারতীয় প্রকৌশলীদের এনে ত্রুটি সারাইয়ের মাধ্যমে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিটটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।