শহীদ ও ভুক্তভোগীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশ: শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০০ অপরাহ্ণ
শহীদ ও ভুক্তভোগীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক: গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ও আত্মত্যাগকারী ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা এবং আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ শনিবার (২৯ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিগত সময়ে গুম-খুনের শিকার পরিবার এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারের ৭৪ জন সদস্যের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার নিশ্চয়তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সীমিত সম্পদের মধ্যেও আমাদের সর্বোচ্চ আন্তরিক চেষ্টা থাকবে আপনাদের পাশে থাকার। যে অপূরণীয় ক্ষতি আপনাদের জীবনে নেমে এসেছে, তা পার্থিব কোনো কিছু দিয়েই পূরণ করা সম্ভব নয়। তবুও আমরা আপনাদের সাথে অতীতেও ছিলাম, বর্তমানে আছি এবং আগামী ভবিষ্যতেও সবসময় পাশে থাকব।”

অনুষ্ঠানটিকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক উল্লেখ করে তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমরা আজ এমন কিছু মানুষকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি, যাদের আজ আমাদের মাঝেই উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তাঁরা আজ আমাদের মাঝে নেই। তবে তাঁদের এই মহান সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের বিনিময়েই আজ দেশের ২০ কোটি মানুষ দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছে।”

গুম হওয়া ও নিহতদের স্মরণ করে সরকারপ্রধান বলেন, “আজ যাঁরা আমাদের মধ্যে অনুপস্থিত, তাঁরা কোথায় কী অবস্থায় আছেন একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিনই ভালো জানেন। আমাদের দায়িত্ব হবে দুই হাত তুলে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা, যাতে তিনি সেই মানুষগুলোকে সর্বোত্তম মর্যাদায় ও ভালো অবস্থায় রাখেন।”

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে স্বাধীনতাত্তোর গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের যোগসূত্র টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধা, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন সময়ে গুম, খুন ও পাশবিক নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিবর্গ এবং জুলাই আন্দোলনের বীর শহীদদের যে লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা ছিল—এই সরকার তা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। বিদ্যমান নানা বাস্তবতার কারণে হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে রাতারাতি সবকিছু সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না, তবে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব।”

সংগ্রামীদের আত্মত্যাগকে বর্তমান সরকারের মূল চালিকাশক্তি আখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, “অনেকে ভাবতে পারেন সরকার কেবল এই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াচ্ছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি—আপনাদের এই অসীম ত্যাগ, অকুণ্ঠ সমর্থন ও সহযোগিতার কারণেই সরকার পূর্ণ উদ্যমে দেশ গড়ার সাহস পাচ্ছে। আপনারাই আমাদের শক্তি, উদ্দীপনা ও এগিয়ে চলার মূল প্রেরণা।”

দেশ পুনর্গঠনে শহীদ পরিবারের সক্রিয় সমর্থন কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই আপনারা আমাদের কাজকে উৎসাহ দেবেন এবং পাশে থাকবেন। যাতে শহীদসহ সকল আত্মত্যাগী গণতান্ত্রিক যোদ্ধাদের দেশ ও জাতিকে নিয়ে যে পবিত্র স্বপ্ন ছিল, আমরা সবাই মিলে সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারি।”

অনুষ্ঠানে গুম-খুনের শিকার পরিবারের সদস্য এবং জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁদের অনুভূতি ও ন্যায়বিচারের দাবি তুলে ধরেন।

মন্তব্য করুন