স্থানীয় নির্বাচনে শিক্ষকদের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত ,পুনর্বিবেচনার দাবি জামায়াতের

প্রকাশ: বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০২:১৪ অপরাহ্ণ
স্থানীয় নির্বাচনে শিক্ষকদের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত ,পুনর্বিবেচনার দাবি জামায়াতের

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণ বা প্রার্থী হতে না দেওয়ার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গৃহীত নতুন সিদ্ধান্তকে ‘দ্বিচারিতা’ আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

আজ বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদলের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, "গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের রাজনীতি করার ওপর কোনো ধরনের আইনি নিষেধাজ্ঞা নেই। এমনকি জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তাঁদের প্রার্থী হওয়ার আইনি সুযোগ বিদ্যমান রয়েছে। সেখানে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাঁদের অংশগ্রহণ করতে না দেওয়াটা স্পষ্টতই এক ধরনের দ্বিচারিতা।"

দেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে শিক্ষকদের রাজনীতি করা এবং নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "আমরা ইসির কাছে এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে পূর্বের নিয়ম বহাল রাখার জোরালো দাবি জানিয়েছি।" জামায়াত প্রধান জানান, নির্বাচন কমিশন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে পুনরায় আলোচনা করবে বলে তাঁদের আশ্বস্ত করেছে।

শিক্ষকদের নির্বাচন সংক্রান্ত দাবির পাশাপাশি ইসি সচিবালয়ে অতিরিক্ত সচিব পদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সামসুল আলমের নিয়োগ অবিলম্বে বাতিলের দাবিও তুলে ধরে জামায়াত। দলটির পক্ষ থেকে তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের মতো স্বাধীন ও স্পর্শকাতর জায়গায় এ জাতীয় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে।

এদিকে সাম্প্রতিক ভিডিওকাণ্ডে দল থেকে সদ্য বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের পদত্যাগের বিষয়ে ইসির সঙ্গে কোনো কথা হয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, "উক্ত বিষয়ে কমিশন সভায় কোনো আলোচনা হয়নি। সংসদ সদস্যপদ থেকে পদত্যাগের বিষয়টি পুরোপুরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত এখতিয়ার এবং এর আইনি প্রক্রিয়া জাতীয় সংসদের স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্ভর করে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে আমরা আমাদের সাংগঠনিক অবস্থান থেকে তাঁকে ইতোমধ্যে দল থেকে বহিষ্কার করেছি।"

মন্তব্য করুন