১০ বছরে সুন্দরবনে বেড়েছে ১৯ বাঘ, সংখ্যা বেড়ে ১২৫

প্রকাশ: বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৬ অপরাহ্ণ
১০ বছরে সুন্দরবনে বেড়েছে ১৯ বাঘ, সংখ্যা বেড়ে ১২৫

অনলাইন ডেস্ক: বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে গত এক দশকে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা ১৯টি বৃদ্ধি পেয়েছে। বন বিভাগের পরিচালিত সর্বশেষ ক্যামেরা ট্র্যাপিং জরিপে ২০২৪ সালে সুন্দরবনে ১২৫টি বাঘের উপস্থিতি সুনিশ্চিত হয়েছে।

এর আগে ২০১৪ সালের জরিপে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬টি। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের জরিপে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১১৪টিতে। ছয় বছর পর সর্বশেষ প্রকাশিত ফলাফলে আরও ১১টি বাঘ যুক্ত হয়ে মোট সংখ্যা ১২৫-এ পৌঁছেছে। বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, সুন্দরবনে প্রতি ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বর্তমানে বাঘের ঘনত্ব প্রায় ২ দশমিক ১৭টি।

সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বাড়লেও এদের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিদ ও গবেষকরা। সুন্দরবন সংরক্ষণে সক্রিয় সংগঠন ‘সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’-এর সমন্বয়কারী মো. নুর আলম শেখ জানান, ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী সময়ে বিভিন্ন কারণে মোট ৯১টি বাঘের মৃত্যু ঘটেছে। যার মধ্যে ৫৮টি বাঘ চোরাশিকারিদের হাতে বা লোকালয়ে পিটিয়ে মারা হয়েছে, ৩০টি মারা গেছে বার্ধক্য ও অসুস্থতায় এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারিয়েছে ৩টি বাঘ। চোরাশিকারি ও হরিণ শিকারিদের বেপরোয়া তৎপরতা বাঘের বাসস্থানের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষক ড. সামিউল হক জানান, একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ বাঘের জন্য ৬০ থেকে ১৫০ বর্গকিলোমিটার এবং স্ত্রী বাঘের জন্য ২০ থেকে ৬০ বর্গকিলোমিটার অবাধ বিচরণক্ষেত্র প্রয়োজন। বাঘ রক্ষা করতে হরিণ শিকার সম্পূর্ণ বন্ধ করা এবং চোরাশিকারিদের নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দেওয়ার ওপর তিনি জোর দেন। অপর অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন মানুষের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ বন্ধের পরামর্শ প্রদান করেন।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বাঘের সুরক্ষায় হরিণ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চলছে এবং ইতোমধ্যে ১৩৫ জন চিহ্নিত হরিণ পাচারকারীর তালিকা তৈরি করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম সুন্দরবন ও বাঘ রক্ষায় সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপ তুলে ধরে জানান, হরিণ পাচারবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং চোরাশিকারিদের ফাঁদে আহত একটি বাঘকে ছয় মাস নিবিড় চিকিৎসা দিয়ে পুনরায় সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন