ঈদ যাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে ২০৭ স্থানে পুলিশের বিশেষ নজরদারি

ঈদ যাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে ২০৭ স্থানে পুলিশের বিশেষ নজরদারি

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যানজটমুক্ত ঈদ যাত্রা উপহার দিতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। 

সারা দেশের যানজটপ্রবণ ২০৭টি স্থান চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ ২০২৬) পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

পুলিশের চিহ্নিত করা এই পয়েন্টগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়ক: ৫০টি স্থান।

  • ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক: ৪৫টি স্থান।

  • ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক: ৪৩টি স্থান।

  • ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক: ২১টি স্থান।

  • ঢাকা-আরিচা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক: ১৪টি করে স্থান।

  • ঢাকা-কক্সবাজার মহাসড়ক: ৯টি স্থান।

  • যশোর-খুলনা মহাসড়ক: ৬টি স্থান।

আইজিপি আলী হোসেন ফকির এক জুম মিটিংয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া রাস্তায় কোনো যানবাহন থামানো যাবে না। মহাসড়কে নসিমন, করিমন ও ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে। এছাড়া চাঁদাবাজি প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেন তিনি। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দ্রুত সরাতে প্রতিটি পয়েন্টে রেকার প্রস্তুত রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

ঈদের ছুটিতে যারা ঢাকা ছাড়বেন, তাদের নিরাপত্তায় ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন:

  1. মূল্যবান সামগ্রী: নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার বা গুরুত্বপূর্ণ দলিল বাসায় অরক্ষিত না রেখে আত্মীয়স্বজনের কাছে বা প্রয়োজনে থানায় গচ্ছিত রাখুন।

  2. বাসার নিরাপত্তা: দরজা-জানালা ভালো করে বন্ধ করুন। গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ পরীক্ষা করে বের হোন। সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখুন।

  3. ওভার স্পিডিং: ফাঁকা ঢাকায় রেসিং বা অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো রোধে পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে, বনানী ও গুলশান এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত সক্রিয় থাকবে।

যাত্রীদের জন্য সতর্কতা:

  • অপরিচিত কারো দেওয়া খাবার খাবেন না (অজ্ঞান পার্টির খপ্পর থেকে বাঁচতে)।

  • অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি ঠেকাতে বাস ও লঞ্চ টার্মিনালে ইউনিফর্মের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ কাজ করছে।

  • জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করুন।

উল্লেখ্য, ঈদের আগে ও পরে ৩ দিন ভারী যানবাহন (ট্রাক, লরি, কাভার্ড ভ্যান) চলাচল বন্ধ থাকবে, তবে জরুরি পণ্যবাহী যান এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।

এন.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন