বাংলাদেশকে নিরাপদ বিনিয়োগের হাব হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশ: শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশকে নিরাপদ বিনিয়োগের হাব হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (ফাইল ছবি)।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বাংলাদেশকে নিরাপদ বিনিয়োগের ঠিকানা ও একটি শক্তিশালী ‘ইনভেস্টমেন্ট হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, সমতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এনগেজমেন্টে আগ্রহী বাংলাদেশ এবং আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধার (মিউচুয়াল রেসপেক্ট) ভিত্তিতে সকলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে চাই।

আজ শনিবার (৩ অক্টোবর ২০২৬) সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সংলাপ ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সংলাপে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “সরকার ফ্যামিলি কার্ডসহ অন্যান্য কার্ডের সমন্বয়ে একটি ইউনিভার্সেল কার্ড প্রত্যেক নাগরিককে দিতে চায়। এছাড়া শিশুদের জন্য আনন্দের সঙ্গে শিক্ষা নিশ্চিত করতে চাই—শুধু সার্টিফিকেটের জন্য নয়। এর জন্য শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম, মিড ডে মিলসহ অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। আমাদের তরুণদের ভবিষ্যৎ উপযোগী ও দক্ষ করে তুলতে বহুমুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আমরা স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করছি।”

প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে জোর দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, “আইনের শাসন প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে। আমরা এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি করব, যেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সত্যিই মানুষের সেবা করবে।”

রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ একটি বড় বৈশ্বিক দায়িত্ব পালন করছে, আমরা এখনো প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই উপায়ে তাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন। এর জন্য অব্যাহত রাজনৈতিক সমর্থন এবং বৈশ্বিক অর্থায়ন প্রয়োজন। পাশাপাশি এই সংকটের মূল কারণগুলো সমাধান করা অত্যন্ত জরুরি, কেননা এই সমস্যা মিয়ানমারে শুরু হয়েছিল এবং মিয়ানমারেই এর শেষ হতে হবে।”

কৃষি ও পানি নিরাপত্তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, “কৃষি আমাদের অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু। আমরা প্রযুক্তি, সেচ, অর্থায়ন এবং বাজারে কৃষকদের প্রবেশাধিকার উন্নত করছি। মৎস্য, গবাদি পশু এবং গ্রামীণ উদ্যোগগুলোকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। খাদ্য নিরাপত্তাকে অবশ্যই কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রপ্তানি শিল্পের পরিপূরক হতে হবে। কারণ একটি শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতি মানেই একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ।”

তিনি আরও বলেন, “পানি নিরাপত্তাও সমানভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী পাঁচ বছরে আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খনন করার পরিকল্পনা করেছি। পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য আমরা পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নিচ্ছি এবং একটি তিস্তা মহাপরিচালক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি। এসব পদক্ষেপ আমাদের কৃষি খাতকে সহায়তা করার পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলবে।”

পরিবেশ সংরক্ষণের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি (২৫০ মিলিয়ন) গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সৌরশক্তির সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাংলাদেশ বর্জ্য পুনর্ব্যবহার (রিসাইক্লিং) এবং পরিবেশবান্ধব (সবুজ) কারখানার ওপর জোর দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড-সার্টিফাইড কারখানার মধ্যে ৫৩টিই রয়েছে বাংলাদেশে। পরিচ্ছন্ন ও সবুজ শহরগুলো বর্জ্য কমাতে এবং অর্থনীতিকে আরও চাঙ্গা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) আয়োজনে তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সংলাপে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনীতিক, কূটনীতিক, গবেষক, অর্থনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নি‌য়েছেন। যেখানে বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক রূপান্তর, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তি, গণতন্ত্র, সুশাসন এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

মন্তব্য করুন