রামিসার কবর জিয়ারতে এসে কাঁদলেন এমপি আব্দুল্লাহ

প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ০৯:৪০ অপরাহ্ণ
রামিসার কবর জিয়ারতে এসে কাঁদলেন এমপি আব্দুল্লাহ

সিরাজদিখান-শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি: রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া মুন্সীগঞ্জের ফুটফুটে শিশু রামিসা আক্তারের কবর জিয়ারত করতে গিয়ে এক নজিরবিহীন আবেগঘন ও অশ্রুসিক্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। 

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে জুমার নামাজ শেষে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ রামিসার পৈতৃক ভিটায় তাঁর কবর জিয়ারত করতে আসেন।

এ সময় কবরের পাশে দাঁড়িয়ে রামিসার শোকাহত ও ভাগ্যাহত বাবাকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে না পেরে নিজেও অঝোরে কেঁদে ফেলেন সংসদ সদস্য। উপস্থিত এলাকাবাসীর অনেকেই এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখে অশ্রু ধরে রাখতে পারেননি, পুরো কবরস্থান জুড়েই তখন কান্নার রোল পড়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী রামিসাকে পৈশাচিক কায়দায় হত্যার পর থেকেই মুন্সীগঞ্জে তাঁর গ্রামের বাড়িতে এক নিস্তব্ধ শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শুক্রবার দুপুরে সংসদ সদস্য ও রামিসার বাবাসহ স্থানীয় শত শত মানুষ শিশুটির কবরের পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ান।

নিহত অবুঝ শিশুটির আত্মার মাগফিরাত ও জান্নাত কামনা করে সেখানে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত চলাকালীন রামিসার পিতার বুকফাটা আর্তনাদে উপস্থিত সবার চোখ পানিতে ভিজে যায়। সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ দীর্ঘ সময় রামিসার পরিবারের সদস্যদের বুকে টেনে নিয়ে পরম মমতায় সান্ত্বনা দেন এবং তাঁদের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার করেন।

জিয়ারত শেষে সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ উপস্থিত সাংবাদিকদের ও এলাকাবাসীকে বলেন, “নিষ্পাপ শিশু রামিসার ওপর যে মধ্যযুগীয় বর্বরতা চালানো হয়েছে, তার কোনো ক্ষমা নেই। আমি নিজে এই শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি। দেশের সরকার ও প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই স্পষ্ট আশ্বাস দিয়েছেন যে, এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের বিচার অত্যন্ত অল্পদিনের মধ্যে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সম্পন্ন হবে। ঘাতক সোহেলসহ এই ঘটনায় জড়িত সকল অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ফাঁসি নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে সব ধরনের আইনি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, এই মামলার রায় এমন এক নজিরবিহীন উপায়ে কার্যকর করা উচিত, যা দেখে ভবিষ্যতে কোনো নরপশু আর কোনো শিশুর দিকে হাত বাড়ানোর বা এমন জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায়। উল্লেখ্য, শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় গত কয়েকদিন ধরে সারা দেশে তীব্র ক্ষোভ ও গণপ্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। প্রধান আসামির ফাঁসির দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক, সামাজিক ও ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতিবাদী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন