সঙ্গীর সাথে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার উপায়

প্রকাশ: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৯ অপরাহ্ণ
সঙ্গীর সাথে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার উপায়

অনলাইন ডেস্ক: আজকাল স্কিন কেয়ার কিংবা ফিটনেসের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পর্কবিষয়ক নানান পরামর্শ ও ‘রিলেশনশিপ ট্রেন্ড’ অহরহই চোখে পড়ে। তবে ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুকের একটি রিল দেখে নিজের সঙ্গীকে হুট করে ‘টক্সিক’ মনে করা কিংবা প্রতিটি অনলাইন কনটেন্টকে সত্যি ধরে নিয়ে বাস্তব সঙ্গীকে বিচার করা বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে [cite: আজকাল ফিটনেস ও স্কিন কেয়ারের মতোই সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্পর্কবিষয়ক নানা পরামর্শ ও ‘রিলেশনশিপ ট্রেন্ড’ চোখে পড়ে। কিন্তু ইনস্টাগ্রাম রিল দেখে নিজের সঙ্গীকে ‘টক্সিক’ মনে করা বা প্রতিটি কনটেন্টকে সত্যি ধরে নিয়ে সঙ্গীকে বিচার করা সম্পর্কে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে।]।

বিশেষজ্ঞ ও সাইকোথেরাপিস্টদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ার ‘রিল’ (Reel) আর বাস্তব জীবনের ‘রিয়েল’ (Real) অভিজ্ঞতার সূক্ষ্ম পার্থক্যটি বোঝা অত্যন্ত জরুরি [cite: বিশেষজ্ঞদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ার ‘রিল’ আর জীবনের ‘রিয়েল’ অভিজ্ঞতার মধ্যে পার্থক্য বোঝা অত্যন্ত জরুরি।]। যদিও অনলাইন কনটেন্টের মাধ্যমে মানসিক নির্যাতন, সঙ্গীর সীমানা নির্ধারণ বা অশালীন আচরণ চেনার বিষয়ে সাধারণ মানুষের সচেতনতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে, তবুও অতিসাধারণ ও স্বাভাবিক বিষয়কেও সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত জটিল করে তুলে ধরা হয় [cite: অবশ্য সোশ্যাল মিডিয়ার সব কনটেন্টই ক্ষতিকর নয়। এর মাধ্যমে মানসিক নির্যাতন, সীমানা নির্ধারণ বা অশালীন আচরণ চেনার বিষয়ে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বেড়েছে। তবে অতিসাধারণ অনেক বিষয়কেও সোশ্যাল মিডিয়ায় জটিল করে দেখানো হয়।]।

সম্পর্কে যেকোনো ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে এবং সঙ্গীর সাথে সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখতে থেরাপিস্টরা দুটি প্রধান বিষয়ে সচেতন থাকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন [cite: এ ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে থেরাপিস্টরা প্রধানত দুটি বিষয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।]:

১. অনলাইনের ভারী শব্দের সাথে বাস্তব মেলানো যাবে না: ‘রেড ফ্ল্যাগ’, ‘টক্সিক’ কিংবা ‘গ্যাসলাইটিং’-এর মতো ক্লিনিক্যাল শব্দগুলো ভিডিওর ভিউ বাড়াতে আজকাল খুব হালকাবেলায় ব্যবহার করা হয় [cite: ১. ভিডিওতে ব্যবহৃত শব্দের সঙ্গে বাস্তব মেলানো যাবে না: ‘রেড ফ্ল্যাগ’, ‘টক্সিক’ বা ‘গ্যাসলাইটিং’-এর মতো শব্দগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব সহজে ব্যবহার করা হয়।]। কিন্তু বাস্তবে মানুষের সম্পর্ক ও আচরণ অনেক বেশি জটিল। কেউ ভুলবশত একবার কোনো খারাপ আচরণ করলেই তাকে ‘টক্সিক’ বানিয়ে ফেলা ভুল। বরং দেখতে হবে তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরে শুধরে নিচ্ছেন কি না [cite: বরং দেখতে হবে অপর প্রান্তের সঙ্গী নিজের ভুল বুঝতে পেরে শুধরে নিচ্ছেন কি না।]। ৩০ সেকেন্ডের ভিডিও কারো মানসিক অবস্থা বা একটা সম্পর্কের সার্বিক চিত্র ফুটিয়ে তুলতে পারে না [cite: মাত্র ৩০ সেকেন্ডের একটি রিল দেখে কারো মানসিক অবস্থা বিচার করা যুক্তিযুক্ত নয়।]।

২. ছোটখাটো মতবিরোধের জন্য সম্পর্ক ভেঙে ফেলা অনুচিত: দুটি ভিন্ন মানসিকতার মানুষ একসঙ্গে থাকলে মতবিরোধ হওয়াটাই স্বাভাবিক নিয়ম [cite: ২. শুধু মতবিরোধের কারণে সম্পর্ক ভাঙা যাবে না : যেকোনো সম্পর্কেই মতবিরোধ হওয়া স্বাভাবিক।]। আদর্শ অমিল হলেই সঙ্গীকে খারাপ ভেবে সম্পর্ক ইতি টানা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। একটি সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের কথা শোনা এবং খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা [cite: একটি সুস্থ সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো একে অন্যের কথা শোনা ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা।]। তবে এই অমিল বা মতবিরোধ যদি টানা অসম্মান কিংবা কারসাজির (manipulation) রূপ নেয়, তবেই বিষয়টি নিয়ে ভাবার সুযোগ রয়েছে [cite: তবে মতবিরোধ যদি ধারাবাহিক অসম্মান বা ম্যানিপুলেশনের দিকে যায়, শুধু তখনই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবা দরকার।]।

মন্তব্য করুন