শিশুর কাল্পনিক বন্ধু কি মস্তিষ্কের বিকাশে সাহায্য করে

প্রকাশ: রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৩ অপরাহ্ণ
শিশুর কাল্পনিক বন্ধু কি মস্তিষ্কের বিকাশে সাহায্য করে

জীবনযাপন ডেস্ক: অনেক শিশুই একা একা কথা বলতে, পুতুলের সঙ্গে গল্প করতে কিংবা পাশে কেউ না থাকলেও কাল্পনিক বন্ধুর সঙ্গে খেলার মতো আচরণ করতে দেখা যায়। কখনো তারা খাবার টেবিলে কাল্পনিক বন্ধুর জন্য চেয়ার রাখে, আবার কখনো খেলনা দিয়ে সাজানো সংসারে সেই বন্ধুকে পরিবারের একজন সদস্যের মতো জায়গা দেয়। এমন দৃশ্য দেখে দেশের অনেক অভিভাবকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, শিশুর এমন আচরণ কি স্বাভাবিক?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট শিশুদের মধ্যে কাল্পনিক বন্ধু তৈরি করার প্রবণতা সাধারণত বেড়ে ওঠার একটি স্বাভাবিক অংশ। এটি শিশুর কল্পনাশক্তি, চিন্তাভাবনা ও অনুভূতি প্রকাশের বিকাশের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। তাই এমন আচরণ দেখলেই শিশুর কোনো মানসিক সমস্যা হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের শিশু, কৈশোর ও পারিবারিক মনোরোগবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, "শিশুর বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কাল্পনিক বন্ধু তৈরি করা। বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখা উচিত।"

কল্পনা করার অর্থ হলো, সামনে উপস্থিত নেই এমন কোনো বিষয়কে মনে মনে ভাবতে পারা। শিশুর চিন্তা ও বোঝার ক্ষমতা বিকাশের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত তিন বছর বয়সের দিকে শিশুদের মধ্যে এমন প্রবণতা দেখা দিতে শুরু করে এবং তিন থেকে ৭ বছর বয়সের মধ্যে এই কাল্পনিক বন্ধু বা কল্পনার জগৎ তৈরির প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

শিশুরা খেলতে খেলতেই নিজেদের কল্পনার জগৎ তৈরি করে। একটি বালিশ হয়ে ওঠে গাড়ি, চামচ হয়ে যায় মাইক্রোফোন, আবার পুতুল হয়ে ওঠে তাদের সবচেয়ে কাছের বন্ধু। সুইজারল্যান্ডের বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী জ্যঁ পিয়াজের তত্ত্বেও ছোট শিশুদের শেখার ক্ষেত্রে কল্পনা ও অভিনয়ধর্মী খেলার গুরুত্ব স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

কাল্পনিক বন্ধুকে ঘিরে গল্প তৈরি করার সময় শিশু নিজের মতো করে বিভিন্ন পরিস্থিতি কল্পনা করে। কখনো সে বন্ধুকে বিপদ থেকে বাঁচায়, কখনো তার সঙ্গে ঝগড়া করে আবার কিছুক্ষণ পর মিলমিশ করে নেয়। এ ধরনের খেলায় শিশুর অনুভূতি প্রকাশ, সমস্যা সমাধানের চেষ্টা এবং সামাজিক পরিস্থিতি বোঝার সুযোগ তৈরি হতে পারে। শিশুরা অনেক সময় নিজেদের ভয়, আনন্দ কিংবা দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা খেলায় ফুটিয়ে তোলে।

শিশু কাল্পনিক বন্ধুর কথা বললে তাকে বকাঝকা করা, ভয় দেখানো কিংবা উপহাস করা একদমই উচিত নয়। বরং সে কী নিয়ে কথা বলছে, কী ধরনের গল্প তৈরি করছে, তা মনোযোগ দিয়ে শোনা যেতে পারে। এতে শিশু নিজের ভাবনা ও অনুভূতি খোলামেলাভাবে প্রকাশের সুযোগ পায়। প্রতিদিন কিছুটা সময় শিশুকে নিজের মতো খেলতে দেওয়া, তার কথা শোনা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আনন্দময় সময় কাটানোর সুযোগ করে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

কাল্পনিক বন্ধু থাকা মানেই কোনো মানসিক সমস্যার প্রমাণ নয়। তবে শিশুটি যদি অতিরিক্ত ভীত হয়ে পড়ে, তার দৈনন্দিন কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটে, অন্যদের সঙ্গে মেলামেশা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয় কিংবা আচরণে অস্বাভাবিক ও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়, তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। এমন পরিস্থিতিতে শিশু বিশেষজ্ঞ বা শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

সকালবেলা / নুসরাত