নাগরপুরে সাড়ে ১০ লাখ টাকা মূল্যের কারেন্ট জাল জব্দ
রিপন খান রবিন, নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: জাতীয় সম্পদ মা ইলিশের সুষম বৃদ্ধি ও প্রজনন নিশ্চিতকরণের অংশ হিসেবে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে সরকারঘোষিত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার যমুনা নদীর বিভিন্ন কৌশলগত পয়েন্টে এক বিশাল যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
গত শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে নাগরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিনের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে উপজেলার ‘ভূতের মোড়’ এলাকা থেকে শুরু হয়ে দপ্তিওর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী নিশ্চিন্তপুর ঘাট পর্যন্ত যমুনা নদীর বিস্তৃত সীমানায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নদী থেকে অবৈধভাবে মাছ শিকারে ব্যবহৃত আনুমানিক ৬৫ হাজার ৫০০ মিটার ক্ষতিকর কারেন্ট ও চায়না দুয়ারী জাল হাতেনাতে জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।
উপজেলা মৎস্য প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জাতীয় প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ শিকার প্রতিরোধে এবং নদীর ইকোসিস্টেম সুরক্ষায় নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে এই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান প্রসঙ্গে নাগরপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাসুম বিল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, “যমুনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অসাধু জেলেদের পেতে রাখা অবৈধ কারেন্ট ও চায়না দুয়ারী জাল চিহ্নিত করে তুলে আনা হয়। জব্দকৃত জালের মোট পরিমাণ আনুমানিক ৬৫ হাজার ৫০০ মিটার, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় সাড় ১০ লাখ টাকা। পরবর্তীতে নদী তীরবর্তী স্থানীয় জনসাধারণ, পথচারী ও জেলেদের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে ‘ভূতের মোড়’ এবং দপ্তিওর ইউনিয়নের ‘নিশ্চিন্তপুর ঘাট’ প্রাঙ্গণে সেই ক্ষতিকর জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে সম্পূর্ণরূপে ভস্মীভূত ও ধ্বংস করা হয়। ইলিশের প্রজনন নিরাপদ রাখতে এই ধরনের ঝটিকা অভিযান ও কঠোর তদারকি সামনের দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।”
অভিযানের নেতৃত্বদানকারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জসিম উদ্দিন জানান, সরকারি নিয়ম অমান্য করে প্রজনন মৌসুমে ইলিশ শিকারের অপচেষ্টা চালালে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসন শতভাগ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
বিশেষ এই যৌথ অভিযানে নাগরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিন ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাসুম বিল্লাহ ছাড়াও নাগরপুর থানা পুলিশের একটি সুসজ্জিত দল এবং সিরাজগঞ্জের চৌহালী নৌ পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সরাসরি উপস্থিত ছিলেন।