জামালপুরে শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে ভুয়া ইমাম মুছা হুজুরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

প্রকাশ: রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৬ অপরাহ্ণ
জামালপুরে শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে ভুয়া ইমাম মুছা হুজুরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ চত্বর, যেখানে ধর্ষণ মামলায় আসামি মুছা মিয়ার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন আদালত।

জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে পবিত্র মসজিদের মকতবে আরবি পড়তে আসা ১৫ বছর বয়সী এক শিশুশিক্ষার্থীকে পশুপক্ষীর মতো ক্রমাগত ফুসলিয়ে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর দায়ে মুছা মিয়া ওরফে মুছা হুজুর (২৭) নামের এক ভণ্ড ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।

আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিজ্ঞ বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুছা মিয়া (২৭) গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি থানার হরিচন্ডি গ্রামের মো. মনিরুল ইসলামের সন্তান। তিনি ঘটনার সময়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ইমামতি ও শিশুদের আরবি শেখানোর কাজে যুক্ত ছিলেন।

মামলার বিবরণে ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০২০ সালের ২৮ নভেম্বর জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দবাড়ী মণ্ডলপাড়া এলাকার একটি গ্রাম্য জামে মসজিদে মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় ভুক্তভোগী শিশুটির বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর এবং সে প্রতিদিনের মতো মসজিদটিতে শিশুদের মকতবে আরবি পড়তে যেত। অভিযুক্ত মুছা মিয়া সেখানে দীর্ঘদিন ধরে ইমামতি করতেন এবং শিশুদের সকালে আরবি শিক্ষা দিতেন।

এজাহারে আনীত সুনির্দিষ্ট অভিযোগে প্রকাশ, প্রতিদিন মকতবের অন্যান্য শিশু শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে দেওয়ার পর ভুক্তভোগী ওই শিশুটিকে সুকৌশলে মসজিদে রেখে দেওয়া হতো এবং তাকে দিয়ে মসজিদের ভেতর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করানো হতো। একপর্যায়ে ওই নিঃসঙ্গ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিয়ের প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অবোধ শিশুটিকে জোরপূর্বক প্রথমবার ধর্ষণ করেন মুছা মিঞা। পরবর্তীতে একইভাবে ভয় দেখিয়ে ওই বছরের ১ ও ২ ডিসেম্বরও একাধিকবার একই স্থানে ধর্ষণের ঘটনা ঘটান তিনি।

পরবর্তীতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পর শিশুটির মেজাজ ও চালচলনে চরম পরিবর্তন লক্ষ করে তার মা ঘটনাটি গভীরভাবে জানতে পারেন। সত্য উন্মোচিত হওয়ার পর ২০২০ সালের ৮ ডিসেম্বর শিশুটির মা বাদী হয়ে দেওয়ানগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফজলুল হক আদালতের রায়ে গভীর স্বস্তি প্রকাশ করে জানান, “বিজ্ঞ আদালতে নিরপেক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক নথিপত্র উপস্থাপনের ভিত্তিতে আসামির বিরুদ্ধে আনীত সমস্ত অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ফলে বিজ্ঞ আদালত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে আসামিকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। আদালতের এই দৃষ্টান্তমূলক রায়ে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ এবং সাধারণ জনগণ অত্যন্ত সন্তুষ্ট।”

আজ দুপুরে চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুছা মিঞা আদালতে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। পরে কড়া নিরাপত্তায় তাঁকে জেলহাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। রায় শুনে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষোভ ও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও বাদীপক্ষ।