৩৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে কিশোরগঞ্জের কর্শাকড়িয়াইলে জালাল উদ্দিনের শোডাউন

প্রকাশ: রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৪ অপরাহ্ণ
৩৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে কিশোরগঞ্জের কর্শাকড়িয়াইলে জালাল উদ্দিনের শোডাউন
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়নের জিগাতলা বাজারে অ

নূর আহাম্মদ পলাশ, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়নে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতির মাঠ বেশ জমে উঠেছে। দীর্ঘ ৩৩ বছরের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থন ও এলাকাবাসীর অকৃত্রিম ভালোবাসাকে সম্বল করে বিশাল এক নির্বাচনী মোটরসাইকেল শোডাউন ও সুধী সমাবেশের আয়োজন করেছেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জালাল উদ্দিন।

গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে হাজারো কর্মী-সমর্থক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের যৌথ অংশগ্রহণে এই স্মরণকালের অন্যতম বৃহৎ মোটরসাইকেল শোভাযাত্রাটি অনুষ্ঠিত হয়।

বিকেল তিনটায় ইউনিয়নের কেন্দ্রবিন্দু জিগাতলা বাজার এলাকা থেকে প্রায় পাঁচ শতাধিক মোটরসাইকেলের সুসজ্জিত বহর নিয়ে শোডাউনটি যাত্রা শুরু করে। এরপর শোভাযাত্রাটি কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রধান প্রধান সড়ক, গ্রামীণ বাজার ও লোকালয় প্রদক্ষিণ করে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের শুভেচ্ছা ও সমর্থন কুড়ায়। পথিমধ্যে শত শত জনতা সড়কের দুপাশে দাঁড়িয়ে প্রবীণ এই রাজনৈতিক নেতাকে অভিবাদন জানান। পরবর্তীতে বিশাল এই শোডাউনটি পুনরায় প্রাথমিক স্থান জিগাতলা বাজারে গিয়ে এক জনসভায় রূপ নেয়।

শোডাউন সমাপ্তিতে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত জনসভায় প্রধান অতিথির আবেগঘন বক্তব্যে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জালাল উদ্দিন বলেন, “আমি আমার জীবনের দীর্ঘ ৩৩ বছর কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্ব দিয়েছি। অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দুইবার সাধারণ সম্পাদক এবং তিনবার সভাপতির গুরুত্বপূর্ণ গুরুদায়িত্ব পালন করেছি। অতীতে চারবার সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেছি। বর্তমানে আমার বয়স ৭০ বছর ছাড়িয়েছে এবং মহান আল্লাহ তাআলার কৃপায় দুইবার পবিত্র হজব্রত পালন করেছি। সত্যি বলতে এই বয়সে এসে আর নতুন করে নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় নামার ইচ্ছা আমার নিজের ছিল না।”

তিনি তাঁর প্রার্থিতার কারণ ব্যাখ্যা করে আরও যুক্ত করেন, “কিন্তু ইউনিয়নের সুবিধাবঞ্চিত সাধারণ মানুষ, প্রবীণ মুরুব্বি ও তরুণেরা যখন প্রতিদিন আমার ঘরে এসে তীব্র দাবি ও আকুল আহ্বান জানিয়েছেন, তখন আমি আর তাঁদের ভালোবাসাকে উপেক্ষা করতে পারিনি। মুলত এলাকার নাগরিক ভোগান্তি দূর করা, সাধারণ মানুষের নিবেদিত সেবা ও সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়েই আমি চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করার এ কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার জীবনের একমাত্র ব্রত জনগণের পাশে দাঁড়ানো। দল যদি আমার দীর্ঘ অবদান মূল্যায়ন করে আমাকে পূর্ণ সমর্থন দেয়, ইনশাআল্লাহ আমি জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে আজীবন আপনাদের সেবা ও কল্যাণ সাধন করে যাব।”

এদিকে প্রবীণ ও অভিজ্ঞ এই প্রার্থীর উত্থানে উচ্ছ্বসিত স্থানীয় সাধারণ এলাকাবাসী ও ভোটার সমাজ। একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়নের ভেতরের সড়ক ও কাঁচা রাস্তাঘাটগুলোর বর্তমানে করুণ দশা। জালাল উদ্দিন দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ও সৎ মানুষ হওয়ায় তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের বেহাল রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও সংস্কারসহ অন্যান্য নাগরিক সমস্যা সমাধানে দ্রুত ও অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।