জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির ৭ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৮ অপরাহ্ণ
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির ৭ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক: ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উদ্‌যাপন উপলক্ষে দেশব্যাপী ৭ দিনের বিস্তৃত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের লক্ষ্যে আয়োজিত এক বিশেষ যৌথসভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। বিএনপির মূল দলসহ সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে খসড়া কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৭ নভেম্বর সকাল ৬টায় রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের জেলা, মহানগর ও উপজেলা পর্যায়ের দলীয় কার্যালয়গুলোতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। ওই দিন সকাল ১১টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতেহা পাঠ করবেন দলের নীতি-নির্ধারক ও শীর্ষস্থানীয় নেতারাসহ সর্বস্তরের কর্মীবৃন্দ।

এ ছাড়া ৭ নভেম্বর দুপুরে ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে এক সুবিশাল বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হবে। একই দিনে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও স্থানীয় উদ্যোগে স্বতঃস্ফূর্ত র‍্যালি আয়োজনের কড়া নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি দিবসটি স্মরণে কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে স্মারক পোস্টার প্রকাশ, বিশেষ আলোচনা সভা এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও স্থিরচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। বিএনপির রাজনৈতিক চেয়ারম্যানের চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী ৬ নভেম্বর কেন্দ্রীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরে বলেন, "৭ নভেম্বর দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে জনগণ যে জাতীয় পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা করেছিল, তারই চূড়ান্ত রূপ ছিল ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক সিপাহি-জনতার বিপ্লব।" তিনি আরও বলেন, এই ঐতিহাসিক ঘটনার পরেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন এবং দেশে বাকশালি শাসন বিলুপ্ত করে বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সব রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক কার্যক্রমের পথ উন্মুক্ত করেন।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, তৎকালীন সময়ে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক মত ও দেশের মানুষের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার দমন করার সর্বাত্মক অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। তবে জনগণের গণতান্ত্রিক চেতনাকে রুখে দেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি মন্তব্য করেন যে, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সেই কালজয়ী বৈপ্লবিক গণতান্ত্রিক চেতনাই মূলত ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের মূল প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। ছাত্র, শ্রমিক ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের ঐতিহাসিক ঐক্যের মাধ্যমেই ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত পতন ঘটেছিল এবং দেশের গণতন্ত্রের পথ আবারও উন্মুক্ত হয়েছে। ভবিষ্যতে যেকোনো অগণতান্ত্রিক শক্তির হাত থেকে সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ৭ নভেম্বরের চেতনা জাতিকে সর্বদা ঐক্যবদ্ধ রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সকালবেলা / নুসরাত