নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযানে আটক ৪৬
স্টাফ রিপোর্টার, নোয়াখালী: নোয়াখালী জেলায় কিশোর গ্যাংয়ের ক্রমবর্ধমান অপতৎপরতা, বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক অস্থিরতা কঠোর হাতে দমনে বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা পুলিশ। এই ধারাবাহিক ও নিয়মিত অভিযানে জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে মোট ৪৬ জন কিশোর ও তরুণকে আটক করা হয়েছে।
আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে নোয়াখালী জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সরকারি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সাধারণ জনগণের জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কিশোরদের বিপদগামী হওয়া ও অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধ এবং সার্বিক সামাজিক শৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখতে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এন এম নাসিরুদ্দিনের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় জেলার প্রতিটি থানায় বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে আজ রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টার একটানা বিশেষ অভিযানে নোয়াখালীর বিভিন্ন থানা পুলিশ ৪৬ জনকে আটক করতে সক্ষম হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে জেলা সদর ও আশপাশের বিভিন্ন থানায় আইনি প্রক্রিয়া ও সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সুধারাম মডেল থানায় সাতজন, কোম্পানীগঞ্জ থানায় আটজন, কবিরহাট থানায় চারজন, বেগমগঞ্জ মডেল থানায় আটজন, সোনাইমুড়ী থানায় একজন, চাটখিল থানায় চারজন এবং চরজব্বর থানায় পাঁচজনকে আটক করার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সুনির্দিষ্ট মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি হাতিয়া থানায় আটক মোট নয়জনের মধ্যে অপরাধের তীব্রতা ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পাঁচজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত প্রসিকিউশন দাখিল করা হয়েছে, পরোয়ানা থাকায় একজনকে সরাসরি আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং বাকি তিনজনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে।
উক্ত বিশেষ অভিযান ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন গণমাধ্যমকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে বলেন, “কিশোর গ্যাংয়ের যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা এবং উঠতি বয়সিদের অপরাধপ্রবণতা সমাজ থেকে চিরতরে প্রতিরোধে জেলা পুলিশের এই বিশেষ ও নিয়মিত অভিযান অত্যন্ত কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “কেবলমাত্র পুলিশি অভিযান বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা দিয়েই কিশোর অপরাধ পুরোপুরি দমন সম্ভব নয়। কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ, স্বাভাবিক ও নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিভাবক সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। এ লক্ষে পুলিশের পক্ষ থেকে জনসচেতনতামূলক ও সামাজিক প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।”