জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫৪৮ ছাত্রীর হাতে বাইসাইকেল দিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম
ওয়াফিক শিপলু, বগুড়া প্রতিনিধি: জাঁকজমক বা কেক কেটে উৎসব নয়; নারীশিক্ষার প্রসার, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজীকরণ এবং হাজার হাজার অসহায় ও দরিদ্র মানুষের হাতে বিনামূল্যে আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে এক ব্যতিক্রমী মানবিক আবহে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্ম বার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।
আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট ৫৪৮ জন মেধাবী ও সুবিধাবঞ্চিত ছাত্রীর হাতে উপহার হিসেবে আকর্ষণীয় গোলাপি রঙের বাইসাইকেল আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ১ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের ছবি সংবলিত স্মারক মগ বিতরণ করা হয়।
রোববার সকাল ১১টায় শিবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জাঁকজমকপূর্ণ এই সাইকেল বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জৌবায়দা রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে নেওয়া এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য—নারীশিক্ষার বিস্তার ঘটানো, গ্রামীণ এলাকার দূর-দূরান্তের ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতের ভোগান্তি দূর করা এবং তাদের পড়াশোনায় উৎসাহ ও গতি প্রদান করা। আয়োজকদের সুদৃঢ় প্রত্যাশা, দৃষ্টিনন্দন বাইসাইকেল পাওয়ায় ছাত্রীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
একই দিন দুপুর ১২টায় উপজেলার আলিয়ারহাট রোকেয়া-ছাত্তার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিশাল বিনামূল্যে চক্ষুচিকিৎসা সেবা ও চক্ষুর ছানি অপারেশন ক্যাম্প পরিচালিত হয়। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, গত দুদিনে প্রায় ৪ হাজার চক্ষুরোগী মানুষকে এই মানবিক সেবা ও বিনামূল্যে ওষুধের আওতায় আনা হয়েছে। এর আগে প্রথম দিনে মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নে প্রায় দুই হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চোখের উন্নত পরীক্ষা ও চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সাইকেল বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, “ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিনের এই বিশেষ মানবিক অনুষ্ঠানগুলো বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনার চরম অমানবিক শাসনামলেও প্রতিকূলতার মধ্যে আমি পালন করেছি। তখনো দোয়া মাহফিল, এতিমদের মাঝে উন্নত মানের খাবার বিতরণ, দুস্থদের সুচিকিৎসাসহ নানামুখী সমাজকল্যাণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হতো। এবারও সেই ধারাবাহিকতায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এবং শিক্ষার পরিবেশকে বেগবান করতে বড় পরিসরে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও স্মৃতিচারণ করে বলেন, “জিয়া পরিবারের সার্বিক কল্যাণ ও মঙ্গলা কামনায় বিগত দীর্ঘ ২০ বছর ধরে প্রতি শুক্রবার বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী দেওয়ানতলা মাজার প্রাঙ্গণে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে দুপুরের সুষম খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। মানুষের বিপদে তাদের পাশে থাকা এবং সর্বাত্মক কল্যাণ নিশ্চিত করাই আমাদের মূল রাজনৈতিক দর্শন।”
ছাত্রীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “নারীশিক্ষার গুণগত বিকাশই সাইকেল বিতরণের মূল চালিকাশক্তি। কারণ আজকের এই ছাত্রীরাই দেশ গড়ার আগামী ভবিষ্যৎ। তাদের সুরক্ষায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে অভিভাবক ও সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
পরবর্তীতে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের সুধী সমাবেশে রাজনৈতিক বিষয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে বলেন, “তারা সব সময় ধর্মকে পুঁজি করে ধোঁকাবাজির রাজনীতি পরিচালনা করে। যারা তাদের এই রাজনৈতিক প্রলোভনে পা দিয়েছিল, তারা আজ অনুশোচনা করছে। তারা ভোটের স্বার্থে মাথায় টুপি চড়িয়ে বাদ্যযন্ত্রের তালে নেচেছিল, কিন্তু নির্বাচন পার হতেই তাদের আর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজামণ্ডপে দেখা মেলেনি। তারা আর মুসলিমদের বেহেশতের প্রলোভন দেখায় না। ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানালেও মসজিদ-মাদরাসার ইমাম, মুয়াজ্জিন কিংবা খাদেমদের জীবনমান নিয়ে তারা কখনো ভাবেনি। অথচ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের জীবনের মর্যাদার কথা গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন।”
তিনি আরও যুক্ত করে বলেন, “আপনাদের পরম আপনজন তারেক রহমান তৃণমূলের প্রান্তিক মানুষের কথা ভেবেই প্রবর্তন করেছেন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ব্যপক বৃক্ষরোপণ, দ্বারে দ্বারে স্বাস্থ্যসেবা এবং খাল খনন কর্মসূচি। আমি আমার নির্বাচনী এলাকার প্রত্যেক মানুষের চোখের জ্যোতি ফিরিয়ে দিতে চাই, পর্যায়ক্রমে সবাইকে নিখরচায় এই চক্ষুসেবা দেওয়া হবে।”
উক্ত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান, প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মিনী মীর লাবনী আকতার, রূপসী বিডি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, তাঁর স্ত্রী মীর ফারিয়া তাবাসসুম, প্রতিমন্ত্রীর তনয়া মীর সামারা সুনাতসহ স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
কর্মসূচির শেষাংশে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ জিয়া পরিবারের সকল সদস্যের শারীরিক সুস্থতা, পেশাগত সাফল্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে এক বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।