ডাবে পানি আছে কি না বোঝার সহজ উপায় ও কৌশল
লাইফস্টাইল প্রতিবেদক : গ্রীষ্মের তীব্র ও অস্বস্তিকর গরমে শরীরের পানিশূন্যতা (Dehydration) দ্রুত দূর করতে কিংবা অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ঠান্ডা ও সতেজ রাখতে কচি ডাবের পানির কোনো জুড়ি নেই। ডাবে থাকা প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইটস, পটাশিয়াম এবং নানা পুষ্টি উপাদান মানব শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তবে আমাদের মধ্যে অনেকেই বাজার থেকে ডাব কিনতে গিয়ে প্রায়ই এক ধরনের মধুর বিভ্রান্তিতে পড়েন। অনেক সময় বাহ্যিক দৃষ্টিতে বেশ বড় আকৃতির বা সাইজের ডাব চড়া দামে কেনার পরও কাটার পর দেখা যায়, তাতে পর্যাপ্ত পানি নেই। ডাবটি আসলে 'ডালকা' বা পেকে যাওয়ার কারণে ভেতরের পানি শুকিয়ে শাঁস বেড়ে গেছে। কেনা ডাবে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পাবেন কি না, তা কাটার আগেই বাইরে থেকে বুঝতে কিছু সহজ ও কার্যকর প্রাকৃতিক কৌশল জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
আজ সোমবার (৮ জুন) দুপুর ৩টা ২২ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘লাইফস্টাইল, ঘরোয়া টোটকা ও পুষ্টিবিজ্ঞান’ এবং ‘বাজার দর, খাদ্য সচেতনতা ও ভেষজ স্বাস্থ্য ট্র্যাকিং উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে পানিভর্তি নিখুঁত ডাব চেনার ৫টি প্রধান উপায় বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
ডাব কেনার সময় বাহ্যিক বড় আকার দেখে প্রলুব্ধ হবেন না। আকারে বড় হলেই যে পানি বেশি থাকবে—এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। ডাব চেনার মূল চাবিকাঠি হলো এর ওজন। একই আকৃতির বা কাছাকাছি সাইজের দুটি ডাব দুই হাতে নিয়ে তুলনা করুন; যে ডাবটি আপনার কাছে ওজনে বেশি ভারী বা নিরেট মনে হবে, ধরে নেবেন সেটির ভেতরে পানির পরিমাণ তুলনামূলক অনেক বেশি আছে। হালকা ডাব মানেই ভেতরে পানি শুকিয়ে শাঁস মোটা হয়ে গেছে।
ডাবটি গাছ থেকে কত দিন আগে পাড়া হয়েছে, তার রঙের ওপর নির্ভর করে। উজ্জ্বল ও সতেজ সবুজ রঙের ডাব দেখলেই বুঝবেন এটি সদ্য গাছ থেকে পেড়ে আনা টাটকা ডাব। পক্ষান্তরে, ডাবের গায়ে যদি ধূসর, বাদামি ছোপ ছোপ দাগ কিংবা ফ্যাকাসে ম্লান রং দেখা যায়, তবে বুঝতে হবে ডাবটি অনেক পুরোনো। আর পুরোনো বা বাসি ডাবে প্রাকৃতিকভাবেই ভেতরের পানি কমে গিয়ে শাঁসের পরিমাণ ঘন হয়ে যায়।
প্রতিটি ডাবের বোঁটার ঠিক নিচের মাথার অংশে তিনটি স্পষ্ট প্রাকৃতিক রেখা বা দাগ থাকে। ডাব কেনার সময় এই দাগগুলো ভালোভাবে খেয়াল করুন। টাটকা ও কচি ডাবের এই প্রাকৃতিক রেখাগুলো বেশ স্পষ্ট, মসৃণ এবং কিছুটা উঁচু বা ফোলা থাকে। কিন্তু ডাবটি যদি পুরোনো বা পেকে শাঁসালো হয়ে যায়, তবে এই দাগগুলো ভেতরের দিকে বসে যায় কিংবা ভোঁতা দেখায়।
পানিভর্তি ডাব চেনার সবচেয়ে প্রাচীন ও কার্যকরী জনপ্রিয় উপায় হলো ডাবটি কানের কাছে নিয়ে হালকাভাবে ঝাঁকিয়ে ভেতরের শব্দ শোনার চেষ্টা করা। একটি ভালো এবং কচি ডাব ঝাঁকালে ভেতরে কোনো প্রকার পানি নড়ার শব্দ হয় না। এর বৈজ্ঞানিক কারণ হলো, কচি ডাবের ভেতরের পুরো অংশটাই প্রায় পানি দিয়ে একদম কানায় কানায় ভর্তি থাকে, ফলে বায়ু চলাচলের ফাঁকা জায়গা পায় না। যদি ডাব ঝাঁকালে জোরে ‘শোঁ শোঁ’ বা পানি থৈ থৈ করার স্পষ্ট শব্দ হয়, তবে বুঝবেন ভেতরে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়েছে, অর্থাৎ পানি কমে গিয়ে সেখানে শাঁস বসেছে।
বিশেষজ্ঞ ও পুষ্টিবিদদের মতে, একদম নিখুঁত গোলাকার ডাবের চেয়ে সামান্য লম্বাটে বা ডিম্বাকৃতি (Oval Shape) ধরনের ডাবে তরল পানির পরিমাণ তুলনামূলক অনেক বেশি থাকে। পুরোপুরি গোল আকৃতির ডাবে অনেক সময় শাঁসের পুরুত্ব বেশি হয় এবং পানি কম পাওয়া যায়। এ ছাড়া, কেনার সময় ডাবের গা ভেজা, স্যাঁতসেঁতে কিংবা বোঁটার কাছে ছোট কোনো ছিদ্র বা ফাটল আছে কি না তা দেখে নিন। ছিদ্রযুক্ত বা স্যাঁতসেঁতে ডাব দ্রুত নষ্ট হয়ে টক হয়ে যায়, তাই এগুলো পরিহার করাই শ্রেয়।
জান্নাত সকালবেলা
|