তীব্র গরমে পানিশূন্যতা এড়ানোর সহজ ও কার্যকরী উপায়
লাইফস্টাইল প্রতিবেদক : প্রকৃতিতে এখন চলছে জ্যৈষ্ঠের তীব্র ও রুক্ষ দাপদাহ। মাথার ওপর গনগনে সূর্য আর চারপাশের তপ্ত বাতাস যেন মানুষের শরীরকে নিমেষেই শুষে নিচ্ছে। এই কাঠফাটা রোদে ও ভ্যাপসা গরমে সুস্থ থাকার সবচেয়ে বড় এবং প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন (Dehydration)। চিকিৎসকদের মতে, আমাদের মানব শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশই পানি। অতিরিক্ত ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে সেই প্রয়োজনীয় পানি ও খনিজ উপাদান কমে গেলে মাথা ঘোরা, শারীরিক দুর্বলতা, হিট স্ট্রোক কিংবা মেজাজ খিটখিটে হওয়ার মতো নানা উপসর্গ দেখা দেয়। তবে ভয়ের কিছু নেই, প্রতিদিনের লাইফস্টাইলে ও খাদ্যতালিকায় ছোট কিছু পরিবর্তন আনলেই এই গরমেও শরীরকে রাখা যায় একদম সতেজ ও চনমনে।
আজ সোমবার (৮ জুন) বিকেল ৩টা ৪২ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘লাইফস্টাইল, ঘরোয়া টোটকা ও পুষ্টিবিজ্ঞান’ এবং ‘পাবলিক হেলথ এওয়ারনেস, ডায়েট চার্ট ও সামার ফিটনেস ট্র্যাকিং উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে তীব্র গরমে পানিশূন্যতা এড়ানোর কার্যকরী উপায়গুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
আমাদের সাধারণ একটি বড় ভুল হলো, তীব্র তেষ্টা না পেলে আমরা সাধারণত পানি খাই না। অথচ চিকিৎসকদের মতে, যখন আপনার তৃষ্ণা পায়, তার মানে শরীর ইতিমধ্যেই পানিশূন্যতায় ভুগতে শুরু করেছে। তাই পড়ার ফাঁকে, টেবিলে কাজ করার সময় বা আড্ডার মধ্যে অল্প অল্প করে বারবার পানি পানের অভ্যাস গড়ে তুলুন। বিশেষ করে বাইরে বের হওয়ার সময় ব্যাগে সবসময় নিজস্ব নিরাপদ পানির বোতল রাখুন। এতে রাস্তার ধারের অস্বাস্থ্যকর, বরফ দেওয়া ও জীবাণুযুক্ত শরবত খেয়ে টাইফয়েড বা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমবে।
অতিরিক্ত ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে শুধু পানিই নয়, বরং জরুরি সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও খনিজ পদার্থও বেরিয়ে যায়। তাই কেবল সাধারণ পানি অনেক সময় তাৎক্ষণিক ক্লান্তি দূর করতে পারে না। এই ঘাটতি পূরণে ডাবের পানি চমৎকার কাজ করে, কারণ এটি পটাশিয়াম ও প্রাকৃতিক মিনারেলের দারুণ উৎস। এ ছাড়া ঘরেই এক গ্লাস পানিতে সামান্য লেবুর রস ও এক চিমটি লবণ মিশিয়ে চমৎকার ‘ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিংক’ বানিয়ে নিতে পারেন। অতিরিক্ত ঘাম বা ক্লান্তিতে এক গ্লাস ওআরএস (ORS) বা খাবার স্যালাইনও শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়।
পানি যে শুধু গ্লাসে পান করেই খেতে হবে, বিষয়টি তেমন নয়। গরমের এই সময়ে প্রকৃতি আমাদের উপহার দিয়েছে দারুণ সব রসালো ফল। তরমুজের প্রায় ৯২% অংশই পানি, যা শরীরের আর্দ্রতা ধরে রাখতে অতুলনীয়। এ ছাড়া প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শসা, বাঙ্গি, পাকা পেঁপে ও টমেটোর সালাদ রাখলে তা হজমশক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরকে ভেতর থেকে দীর্ঘক্ষণ ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।
শরীর থেকে যেন অতিরিক্ত ঘাম ঝরে পানি ক্ষয় না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে দুপুরের কড়া রোদ এড়িয়ে চলুন। বাইরে বেরোলে ছাতা, সানগ্লাস বা ক্যাপ ব্যবহার করুন। এই আবহাওয়ায় গাঢ় রঙের বা টাইট পোশাক একদম বাদ দেওয়া উচিত। হালকা রঙের, ঢিলেঢালা সুতির (Cotton) পোশাক পরুন, যা সহজে বাতাস চলাচল করতে দেয় এবং শরীরের ঘাম শুষে নেয়।
বাঙালি হিসেবে আমাদের চা বা কফির প্রতি টান একটু বেশিই থাকে। কিন্তু গরমের দিনগুলোতে এই অভ্যাসে কিছুটা লাগাম টানা প্রয়োজন। চা-কফিতে থাকা উচ্চমাত্রার ক্যাফেইন শরীরকে আরও দ্রুত পানিশূন্য বা ডিহাইড্রেট করে তোলে। তাই এই সময়ে চা-কফির পরিমাণ কমিয়ে এর বদলে বেলের শরবত, মাঠা, ঘোল বা তাজা ফলের রস খাওয়ার অভ্যাস করুন।
জান্নাত সকালবেলা
|