পাকিস্তানে টিকটক তারকা শামসু বিবিকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের ট্যাক্সিলা এলাকায় একটি চলন্ত গাড়িতে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে জনপ্রিয় টিকটক তারকা শামসু বিবিকে হত্যা করেছে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীরা। এ সময় গাড়িতে থাকা তাঁর ১৫ বছর বয়সী ছোট বোন আসিমা গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরব নিউজের সূত্রে খবরটি নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।
যেভাবে হামলা চালানো হয়:
নিহত শামসু বিবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আয়েশা গিলামানা’ নামে পরিচিত ছিলেন। তাঁর বাবা ফজল সাহিবজাদার দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন ‘কাশিফ ওরফে কাশি’ নামের এক ব্যক্তি ফোন করে শামসুকে জরুরি ভিত্তিতে বাইরে আসতে বলেন। ফোন পেয়ে শামসু তাঁর বোন আসিমা ও ভাই নাইমাতুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে নিজস্ব ব্যক্তিগত গাড়িতে করে রওনা হন।
অভিযোগে নাইমাতুল্লাহ জানান, পথিমধ্যে একটি পেট্রল পাম্পের কাছাকাছি পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুই সশস্ত্র ব্যক্তি তাঁদের গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ করে। একটি গুলি সরাসরি শামসুর ঘাড়ে গিয়ে বিদ্ধ হলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। গুলিবর্ষণের আকস্মিকতায় নিয়ন্ত্রন হারিয়ে গাড়িটি অন্য একটি গাড়ির সঙ্গে সজোড়ে ধাক্কা খেলে ছোট বোন আসিমা গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁদের টিএইচকিউ হাসপাতাল ট্যাক্সিলায় নিয়ে যাওয়া হয়।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে সম্ভাব্য কারণ:
নিহতের বাবা পুলিশকে জানিয়েছেন, শামসু বিবি বিগত তিন-চার বছর ধরে নিয়মিত টিকটকে কন্টেন্ট তৈরি করতেন এবং সেখানে তাঁর প্রায় ১৩ লাখ অনুসারী ছিল। মেয়ের নির্মম মৃত্যুর পর পরিবার থেকে তাঁর টিকটক অ্যাকাউন্টটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
পরিবারের দাবি, কওসার এবং জাভেদ ওরফে শাহিন নামের দুই ব্যক্তির সঙ্গে শামসুর বিপুল অংকের আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কোন্দল ছিল। পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে কয়েকদিন ধরে ওই ব্যক্তিরা শামসুকে ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। এ নিয়ে তিনি পূর্বে ইসলামাবাদ থানায় একটি প্রাতিষ্ঠানিক অভিযোগও দায়ের করেছিলেন।
শামসুর বাবার ধারণা, ওই দুজন ব্যক্তি সরাসরি কিংবা ভাড়াটে খুনিদের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। ঘটনায় ফোন করে ডেকে নেওয়া কাশিফের ভূমিকা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। ঘাতকদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ইতিমধ্যে অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
|