যুদ্ধবিরতির মধ্যেও তাবুতে হামলা, নিহত আরও এক শিশু

প্রকাশ: রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৩:৩৫ অপরাহ্ণ
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও তাবুতে হামলা, নিহত আরও এক শিশু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের অস্থায়ী আশ্রয়স্থল ও তাঁবুতে বর্বরোচিত হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী। এমনকি আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় ‘নিরাপদ অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষিত এলাকাগুলোতেও ড্রোন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে এক শিশুসহ আরও তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে দুই ভাই-বোনও রয়েছে।

শনিবার গাজার আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের দুটি অস্থায়ী তাঁবু লক্ষ্য করে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় ১৫ বছর বয়সী কিশোর ইসলাম মুসা এবং তার ৩০ বছর বয়সী ভাই আবদুল্লাহ মুসা ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গাজার চিকিৎসা সূত্রের বরাতে কাতারি সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গাজার সিভিল ডিফেন্স (জরুরি উদ্ধারকারী দল) জানায়, হামলার পর রক্তাক্ত স্থান থেকে অন্তত সাতজন গুরুতর আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে দ্রুত খান ইউনিসের নাসের হাসপাতাল এবং রেড ক্রস ফিল্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর হাসপাতালের প্রাঙ্গণে সাদা কাফনে মোড়ানো দুই ভাই-বোনের মরদেহ ঘিরে স্বজনদের আহাজারি ও কান্নার হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যায়।

একই দিনে দক্ষিণ গাজায় আরেকটি পৃথক ইসরাইলি বিমান হামলায় গুরুতর আহত হওয়া ১০ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু ওয়ালিদ ইউসুফ আবু জাজার দীর্ঘ লড়াইয়ের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা গেছে। খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র তুরস্কের আনাদোলু সংবাদ সংস্থাকে এই তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে, গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আরেকটি ঘনবসতিপূর্ণ তাঁবুতেও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। আল-শিফা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই হামলায় অন্তত ১২ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, আহতদের বেশিরভাগই নারী এবং তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

গাজা সিটি থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ে আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকার পরও দখলদার ইসরাইলি বাহিনী কোনো তোয়াক্কা না করে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে। বর্তমানে গাজার আকাশে ইসরাইলি নজরদারি ও কোয়াডকপ্টার ড্রোনের তৎপরতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে বাস্তুচ্যুত সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে হামলার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

মন্তব্য করুন