২ বছরেও শেষ হয়নি সেতু, ভোগান্তিতে ২০ গ্রামের মানুষ
মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যে সেতু দিয়ে একসময় প্রতিদিন হাজারো মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতেন, সেখানে এখন পড়ে আছে ভাঙা কাঠামো আর একটি নড়বড়ে অস্থায়ী কাঠের সাঁকো। জরাজীর্ণ এই সাঁকো দিয়ে এখন প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন স্থানীয় শিক্ষার্থী, কৃষক, পথচারী, রোগী ও ছোট যানবাহনের চালকেরা।
নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল দুই বছর আগে। তবে কাজের গতি এতটাই ধীর যে, নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পের কাজ অর্ধেকও সম্পন্ন হয়নি। ফলে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার নেহালপুর ইউনিয়নের হাজিরহাট বাজার ভায়া কুলটিয়া ইউপি সড়কের ‘বড় খাল’-এর ওপর ২০ মিটার দীর্ঘ একটি আরসিসি গার্ডার সেতু পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় ২ কোটি ৭২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ব্যয়ে এই নির্মাণকাজের কার্যাদেশ পান সাতক্ষীরার ঠিকাদার মো. ইকবাল জমাদার।
প্রকল্প অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ মে কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে ২০২৬ সালের জুন মাস চললেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুরোনো সেতুর বেশির ভাগ অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। নতুন সেতুর দুই পাশে কেবল পিলার দৃশ্যমান হলেও মূল স্প্যান বা স্লাবের কাজ এখনো অসম্পূর্ণ। সাময়িকভাবে চলাচলের জন্য পাশে তৈরি করা কাঠের অস্থায়ী সেতুটিও এখন জরাজীর্ণ ও নড়বড়ে। পথচারীরা কোনোমতে হেঁটে পার হতে পারলেও ভ্যান, মোটরসাইকেল বা বাইসাইকেল চালকদের গাড়ি ঠেলে বা টেনে পার করতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতায় এই কাঠের সেতুটি তলিয়ে গেলে যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
নেহালপুর-হাজিরহাট-কুলটিয়া সড়কটি এলাকার অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও যোগাযোগের মাধ্যম। পদ্মনাথপুর গ্রামের ভ্যানচালক রফিকুল ইসলাম ও পাঁচকাটিয়ার অজিত বিশ্বাস জানান, যাত্রী নামিয়ে একা একা ভ্যান টেনে এই নড়বড়ে সাঁকো পার করা অত্যন্ত কষ্টের। দুই বছর ধরে একটু একটু করে কাজ হওয়ায় তাদের আয়-রোজগারও কমে গেছে। ডাঙ্গা মহিষদিয়া গ্রামের শ্রমিক আলমগীর ও হরিদাসকাটির কৃষক প্রণব বিশ্বাস জানান, শুকনো মৌসুমে কষ্ট করে পার হওয়া গেলেও বর্ষায় এই পথ নরকযন্ত্রণা এনে দেয়। দ্রুত এর স্থায়ী সমাধান চান তাঁরা।
কাজের দীর্ঘসূত্রতার বিষয়ে মনিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আহমেদ জানান, ভবদহ অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে বছরের প্রায় ছয় মাস কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছিল। বর্তমানে শাটারিং ও পুরোনো সেতুর অবশিষ্ট অংশ অপসারণের কাজ চলছে, যার পরপরই স্লাব ঢালাই শুরু হবে। কাজের গতি বাড়িয়ে চলতি বছরের মধ্যেই সেতুটি চালুর সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। এছাড়া জনসাধারণের সুবিধার্থে আগামী দুই দিনের মধ্যে নড়বড়ে কাঠের সেতুটি মেরামত করতে ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঠিকাদার মো. ইকবাল জমাদারও জলাবদ্ধতার বিষয়টিকে দায়ী করে বলেন, "খালের পানি সেচে কাজ করতে গিয়ে বাড়তি সময় লেগেছে। পুরোনো সেতুর অংশ অপসারণ শেষ হলেই মূল স্লাব ঢালাইয়ের কাজ শুরু হবে। আশা করছি, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে মূল সেতুর কাজ সম্পন্ন করতে পারব।"
এআইএল/সকালবেলা
|