সবুজবাগে পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৫:৫৪ অপরাহ্ণ
সবুজবাগে পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর সবুজবাগের দক্ষিণগাঁও এলাকা থেকে এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত নারীর নাম নিলুফার ইয়াসমিন (২৯)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বলে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

আজ রোববার (২৮ জুন) দুপুরের দিকে সবুজবাগ থানা-পুলিশ ঘরের দরজা ভেঙে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহটি উদ্ধার করে।

নিহত নিলুফার ইয়াসমিনের স্বামী আনোয়ার হোসেন পুলিশের একজন উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে বর্তমানে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশে (জিএমপি) কর্মরত আছেন। প্রায় ১৪ বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয় এবং দাম্পত্য জীবনে তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। নিলুফারের গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বিক্রবিল গ্রামে এবং তাঁর বাবার নাম নুর ইসলাম।

সবুজবাগ থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ রোববার ভোরে স্বামী আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে নিলুফার ইয়াসমিনের ফোনে শেষবারের মতো কথা হয়। এর পর থেকে আনোয়ার হোসেন বারবার ফোন দিলেও স্ত্রী আর কল রিসিভ করছিলেন না। দীর্ঘক্ষণ কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বিষয়টি আনোয়ার হোসেনের পক্ষ থেকে থানা পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে সবুজবাগ থানার এসআই ফাতেমা বেগম দক্ষিণগাঁও শাহীবাগ এলাকার ওই ভাড়া বাসায় যান। সেখানে গিয়ে তিনি ফ্ল্যাটের মেইন দরজা ভেতর থেকে শক্তভাবে বন্ধ পান। পরবর্তীতে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে নিলুফারের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, আজ ভোর সাড়ে ৪টা থেকে সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে যেকোনো সময়ে নিলুফার গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। আইনি প্রক্রিয়া ও প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি শেষে বিকেলের দিকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতালে উপস্থিত নিলুফারের এক খালাতো ভাই জানান, নিলুফার দক্ষিণগাঁও শাহীবাগ এলাকার বাসায় তাঁর সাত বছর বয়সী মেয়ে আফিয়াকে নিয়ে থাকতেন। আর তাঁদের ১০ বছর বয়সী ছেলে আরাফাত একটি আবাসিক মাদ্রাসায় থেকে পড়াশোনা করে। স্বামী আনোয়ার হোসেনের বরাত দিয়ে পুলিশ আরও জানিয়েছে, নিলুফার তুচ্ছ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সহজেই অতিরিক্ত মানসিক দুশ্চিন্তায় ভুগতেন। বিশেষ করে বড় ছেলের লেখাপড়া ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বেশ কিছুদিন ধরে মারাত্মক উদ্বিগ্ন ছিলেন। এসব পারিবারিক ও মানসিক কারণে চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়ে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মন্তব্য করুন