জনপরিসর নিয়ে ব্রিটিশ কাউন্সিলের শিল্প ও স্থাপত্য প্রদর্শনী

প্রকাশ: রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৬:৩১ অপরাহ্ণ
জনপরিসর নিয়ে ব্রিটিশ কাউন্সিলের শিল্প ও স্থাপত্য প্রদর্শনী
ছবি : সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর বেঙ্গল শিল্পালয়ে ‘সহাবস্থানের স্থাপত্য: বঙ্গীয় বদ্বীপে জনপরিসরের স্থানিক আখ্যান’ শীর্ষক একটি বিশেষ প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। ব্রিটিশ কাউন্সিলের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রদর্শনীটি আজ রোববার (২৮ জুন) থেকে শুরু হয়ে আগামী ২৫ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

শিল্প ও স্থাপত্যের অনন্য সমন্বয়ে আয়োজিত এই বিশেষ প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়েছে—কীভাবে নারীবাদী নৈতিকতা, জলবায়ু-সংবেদনশীল পরিকল্পনা এবং সরাসরি জনসম্পৃক্ততা বঙ্গীয় বদ্বীপে আরও বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক জনপরিসর গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। পুরো প্রদর্শনীতে স্থানীয় টেকসই উপকরণ, ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প এবং পরিবেশ-সংবেদনশীলতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নির্মিত বিভিন্ন স্থাপত্যকর্ম স্থান পেয়েছে। এর মাধ্যমে মূলত স্থাপত্যকর্মের সঙ্গে মানুষ, স্থান ও প্রকৃতির পারস্পরিক নিবিড় সম্পর্কের বিষয়গুলো নতুন করে ভাবার এক দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ব্রিটিশ কাউন্সিলের 'উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড' (ওয়াও) বাংলাদেশ গ্র্যান্টস প্রোগ্রামের বিশেষ সহায়তায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের যৌথ নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্থপতি সাইকা ইকবাল মেঘনা ও শুভ্র শোভন চৌধুরী। আর প্রদর্শনীটির কিউরেটরিয়াল দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী এবং খ্যাতিমান শিল্পী ও কলা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ওয়াকিলুর রহমান।

আজ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। ব্রিটিশ কাউন্সিলের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগটির ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, জনপরিসর, নগর পরিকল্পনা ও স্থাপত্যকে বাংলাদেশের আবহমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার এখন নানামুখী নীতিগত সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে। বর্তমানে ঢাকা ও বিভাগীয় শহরগুলোর মাস্টার প্ল্যানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে এ পরিকল্পনা দেশের জেলা ও উপজেলা শহরেও সম্প্রসারণ করা হবে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, প্রতিটি সরকারি প্রকল্পে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি এবং তাদের যথাযথ অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের শহরগুলোকে বৃষ্টি, পানি ও জলবায়ুর বাস্তবতার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে, এগুলোকে কোনোভাবেই প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা যাবে না।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ও ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর জেমস গোল্ডম্যান বলেন, “সহাবস্থানের স্থাপত্য প্রদর্শনীতে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। শিল্প, স্থাপত্য ও উদ্ভাবনী চিন্তার সমন্বয়ে আয়োজিত এই প্রদর্শনী বঙ্গীয় বদ্বীপে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল জনপরিসর গড়ে তোলার নতুন পথ দেখাচ্ছে। ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘ওয়াও’ কর্মসূচি এ ধরনের উদ্যোগকে সবসময় সমর্থন করে, যা যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাওয়া খাতগুলোর মধ্যে একটি। পাশাপাশি, এটি বাংলাদেশে জলবায়ু-সংবেদনশীল ও টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ায় আমাদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই অংশ।”

ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস তাঁর বক্তব্যে বলেন, সৃজনশীল অর্থনীতি, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্যে একটি গভীর সংযোগ তৈরি করা এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। নকশা, স্থাপত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সৃজনশীল অর্থনীতির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। টেকসই শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে সমাজকে অবশ্যই অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও বিশেষ বক্তব্য দেন প্রখ্যাত স্থপতি, শিক্ষাবিদ এবং বেঙ্গল ইনস্টিটিউট ফর আর্কিটেকচার, ল্যান্ডস্কেপস অ্যান্ড সেটেলমেন্টসের মহাপরিচালক অধ্যাপক কাজী খালিদ আশরাফ।

মন্তব্য করুন