ইরান সংকট ও ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ: দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির পূর্বাভাস

রাকিবুল হাসান
প্রকাশ: শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৩:৫২ অপরাহ্ণ
ইরান সংকট ও ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ: দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির পূর্বাভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইরানের সাথে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তাক্ত সংঘাতের পর কোনো সুনির্দিষ্ট সামরিক বা কূটনৈতিক পথ খুঁজে না পাওয়ায় এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই অচলাবস্থা ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও আসন্ন নির্বাচনের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

শনিবার (২ মে) আন্তর্জাতিক একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, দুপক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় এই মুহূর্তে সমাধানের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সম্প্রতি ইরান নতুন করে আলোচনার টেবিলে বসার প্রস্তাব দিলেও ট্রাম্প তা তাৎক্ষণিক প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইরানের দাবি ছিল, যুদ্ধ বিরতির পর পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া নিয়ে আলোচনা হবে। তবে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আগে পারমাণবিক বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করতে হবে।

এই সামরিক স্থবিরতার প্রভাব সরাসরি পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে। সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকট প্রকট হয়েছে। খোদ যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে। সর্বশেষ জনমত জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার পারদ নেমে ৩৪ শতাংশে ঠেকেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা গণমাধ্যমকে বলেন, "মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সামরিক শক্তি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ট্রাম্পের মূল লক্ষ্যগুলো এখনও পূরণ হয়নি। ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন কিংবা পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করার বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। উপরন্তু, ইরান এখনও হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পয়েন্টের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে, যেখান দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি পরিবহন হয়।"

হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ একটি সূত্র গণমাধ্যমকে জানায়, ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করতে দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদী নৌ-অবরোধ আরোপের পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে সেন্ট্রাল কমান্ড বড় ধরনের সামরিক হামলার বিকল্প পথও খোলা রেখেছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান সময়ক্ষেপণের কৌশল নিয়েছে। তারা চাচ্ছে এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী করতে, যাতে অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। এছাড়া হিজবুল্লাহ ও হুথিদের মতো গোষ্ঠীগুলোর ওপর ইরানের প্রভাব খর্ব করতে না পারাটাও ওয়াশিংটনের জন্য একটি বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই 'ফ্রোজেন কনফ্লিক্ট' বা স্থবির সংঘাত ট্রাম্পের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত কোনো সমাধান না এলে কেবল মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি দীর্ঘায়িত হবে না, বরং ইউরোপীয় মিত্রদের সাথেও ওয়াশিংটনের দূরত্ব আরও বাড়তে পারে।

মন্তব্য করুন