তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে পারে আরও যেসব দেশ

প্রকাশ: সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩২ অপরাহ্ণ
তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে পারে আরও যেসব দেশ
মক্কা চুক্তি স্বাক্ষরের পর তুর্কি, সৌদি ও পাকিস্তানি শীর্ষ নেতৃত্বের যৌথ আলোচনা।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে তুরস্ক, সৌদি আরব এবং পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত কৌশলগত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরোধ চুক্তি’-র পরিধি ও সামরিক আওতা আরও বড় করার উদ্যোগ নিয়েছে আঙ্কারা।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন এই নিরাপত্তা বলয় শুধু উক্ত তিন দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং প্রয়োজন ও চুক্তি অনুযায়ী আরও কয়েকটি আঞ্চলিক দেশকে এই প্রতিরক্ষামূলক ছাতার নিচে যুক্ত করা হবে।

ন্যাটোর (NATO) যৌথ নিরাপত্তা নীতির আদলে তৈরি এই ঐতিহাসিক চুক্তির মূল শর্ত হলো—জোটভুক্ত তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলা বা সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে তা বাকি সব সদস্য রাষ্ট্রের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে এবং যৌথভাবে তা প্রতিহত করা হবে। বর্তমানে এই ত্রিমুখী জোটে নতুন কোনো দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।

নতুন সদস্য হিসেবে কূটনৈতিক তালিকায় সবার আগে উঠে আসছে মিশরের নাম। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান মিশরকে এই চুক্তির একটি ‘প্রাকৃতিক অংশীদার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং সামান্য কিছু প্রযুক্তিগত জটিলতা নিরসন হলেই কায়রো এতে যোগ দেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা ও ইসরায়েলের সাথে বিগত দিনের সুনির্দিষ্ট শান্তি চুক্তি বজায় রাখার তাগিদে কায়রো অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে কাতার ও কুয়েতের এই জোটে যোগ দেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আল-জাজিরা জানায়, কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জাসিম আল থানি জিসিসি (GCC) ভুক্ত সব দেশকে এতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া আজারবাইজান, সিরিয়া ও জর্ডানের মতো সামরিক ও ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোকেও এই যৌথ জোটের সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন