চাঁদাবাজি মামলায় জামায়াত নেতা কারাগারে

প্রকাশ: সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২৫ অপরাহ্ণ
চাঁদাবাজি মামলায় জামায়াত নেতা কারাগারে

সকালবেলা নিউজ: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজ বিঘ্নিত করার মামলায় জামায়াত নেতা ও বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলাম এবং তাঁর সহযোগী বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১০ আগস্ট) সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমানের আদালতে হাজির হয়ে আসামিরা জামিন আবেদন করলে বিজ্ঞ বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, উচ্চ আদালত থেকে প্রাপ্ত ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের মেয়াদ শেষে সোমাবার সাতক্ষীরার সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিনের প্রার্থনা করেন হাজী নজরুল ও বিশ্বজিৎ। তবে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের সুরক্ষার স্বার্থে বাদীপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয়পক্ষের যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদের জেলা হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে, গত ২৫ মে রাতে শ্যামনগর থানায় জাপানি অর্থায়নকারী সংস্থা জাইকার এই প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ‘আর-রাদ করপোরেশন’-এর আইন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ ও শুরা সদস্য হাজী মো. নজরুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে তাঁর ছেলে আব্দুর রহমান, বিশ্বজিৎ মণ্ডলসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়।

এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, বিগত বছরের আগস্ট মাস থেকেই প্রকল্প এলাকায় ধারাবাহিকভাবে চাঁদা দাবি করে আসছিল একটি চক্র। চাঁদা না দেওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে বাঁধের নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে গত ১৯ মে রাতে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে পুনরায় ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২৩ মে দুপুরে আসামিরা সঙ্গীদের নিয়ে প্রকল্প এলাকায় উপস্থিত হয়ে দায়িত্বরত প্রকৌশলী জাহিদ হাসান ও কর্মচারী ফেরদৌসের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন এবং বেশ কিছু মালামাল ছিনিয়ে নিয়ে যান। আহতরা পরবর্তীতে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। বাদীর দাবি, সম্পূর্ণ হামলা ও নৈরাজ্যের চিত্র প্রকল্প এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায় দৃশ্যমান।

অবশ্য শুরু থেকেই সকল অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন ইউপি চেয়ারম্যান হাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর দাবি, ঘটনাটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রণোদিত ও ভিত্তিহীন। ঘটনার দিন তিনি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে পূর্বনির্ধারিত বাজেট অধিবেশনে ব্যস্ত ছিলেন।

এদিকে সোমবার বিচারালয় প্রাঙ্গণে আসামি নজরুল ইসলামের ছবি ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান তাঁর ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম। এ ঘটনায় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।

উপকূলীয় পাউবো কর্মকর্তারা জানান, বর্ষা মৌসুমের পূর্বে এই সুরক্ষাবাঁধের কাজ সম্পন্ন না হলে বিশাল এলাকা জলমগ্ন হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি হবে। ফলে প্রকল্পের নিরবচ্ছিন্ন অগ্রগতি ও নিরাপত্তার স্বার্থে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক ছিল।

এআইএল/সকালবেলা


মন্তব্য করুন