মাদ্রাসাছাত্রীদের উত্ত্যক্তের প্রতিবাদে সংঘর্ষ: নিহত ১, আহত ১০
আহমেদ লিওন, ভাঙ্গা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা: ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কৈডুবী সদরদী গ্রামে মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ জানানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে সানি ব্যাপারী (১৯) নামের এক কিশোর নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে ভাঙ্গা পৌরসভার কৈডুবী সদরদী গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত সানি ব্যাপারী ওই গ্রামের আতিয়ার ব্যাপারীর ছেলে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন—সবুজ ব্যাপারী, মনির ব্যাপারী, আরাফাত হোসেন, শাবানা বেগম ও আতিয়ার ব্যাপারী। উদ্ধার পাওয়া আহতদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় হযরত ফাতেমাতুজ যাহরা (রাযি.) মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল একই এলাকার বশার মাতুব্বরের ছেলে জিহাদ মাতুব্বর। সোমবার সকালে বিষয়টির তীব্র প্রতিবাদ জানান মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি মনির ব্যাপারী।
এই প্রতিবাদ কেন্দ্র করে বাশার মাতুব্বর, বাক্কার মাতুব্বর, আলমগীর মাতুব্বর, হাসান মাতুব্বর ও জাহাঙ্গীর মাতুব্বরের নেতৃত্বে মাতুব্বর পক্ষ এবং মুফতি মনির ব্যাপারী, সবুজ ব্যাপারী, পলাশ ব্যাপারী ও আতিয়ার ব্যাপারীর অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ঘণ্টাঘণ্টা ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হন।
গুরুতর আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে সানি ব্যাপারীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আছমত মাতুব্বর জানান, "দুপুরে শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করার বিষয়টি নিয়ে প্রথমে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। সে সময় আমরা উভয় পক্ষকে শান্ত করে বাড়িতে ফেরত পাঠাই। কিন্তু এর এক ঘণ্টা পর আবারও দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।"
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এআইএল/সকালবেলা
|