চীনে আঘাত হানল টাইফুন ডলফিন, বন্যা ও ভূমিধসের শঙ্কা
অনলাইন ডেস্কঃঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোমিটার বেগের প্রলয়ঙ্করী বাতাস ও ভারী বর্ষণ নিয়ে চীনের পূর্ব উপকূলবর্তী ঝেজিয়াং প্রদেশে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী টাইফুন ‘ডলফিন’। ঝড়ের তাণ্ডবে সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে মারাত্মক বন্যা ও ভূমিধসের সৃষ্টি হয়েছে। সম্ভাব্য প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলো থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ১০ লাখ বাসিন্দাকে জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
চীনের জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, গতকাল রোববার (৯ আগস্ট, ২০২৬) স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঝেজিয়াং প্রদেশের ইউহুয়ান শহরের কাছে প্রথমবার স্থলভাগে আঘাত হানে টাইফুন ডলফিন। সে সময় ঝড়ের কেন্দ্রভাগে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। এর এক ঘণ্টার মাথায় ওয়েনঝৌ শহরের উপকূলীয় এলাকায় ঝড়টি দ্বিতীয়বার আছড়ে পড়ে।
আবহাওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, টাইফুনের প্রভাবে ঝেজিয়াংয়ের মধ্য ও পূর্বাঞ্চল সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এলাকাগুলোতে আগামী কয়েক দিনে ২৫০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার (৮ থেকে ১৬ ইঞ্চি) পর্যন্ত রেকর্ড ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা দ্রুত আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসের মতো বড় বিপদ ডেকে আনবে।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঝড়ের আঘাতের আগেই ওয়েনঝৌ শহর থেকে প্রায় ৯ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং খোলা হয়েছে এক হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র। এছাড়া ফুজিয়ান প্রদেশ থেকেও প্রায় ৯৯ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
টাইফুন ডলফিনের প্রভাবে চীনের যোগাযোগ ও বিমান পরিবহন ব্যবস্থা একপ্রকার ভেঙে পড়েছে। দেশটির অর্থবাণিজ্যিক হাব সাংহাইয়ের হংকিয়াও ও পুডং বিমানবন্দরে প্রায় ১ হাজার ৪০০টি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া হাংঝৌ বিমানবন্দরে আরও অন্তত ২৭০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ঝেজিয়াং ও ফুজিয়ান অঞ্চলে ২০০টিরও বেশি যাত্রীবাহী ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ স্থগিত রাখা হয়েছে এবং খোলা সমুদ্রে কর্মরত শত শত নির্মাণকারী জাহাজকে জরুরি ভিত্তিতে বন্দরে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
এর আগে শনিবার উত্তর তাইওয়ানেও তাণ্ডব চালিয়ে ব্যাপক বৃষ্টিপাত ঘটিয়েছে ক্ষিপ্রগতির এই টাইফুন। সার্বিক ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি বিবেচনায় চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র রোববার সকাল থেকেই সর্বোচ্চ সতর্কতা 'রেড অ্যালার্ট' জারি রেখেছে। আবহাওয়া অফিস আরও সতর্ক করেছে যে, ঝেজিয়াং ছাড়াও সাংহাই, ফুজিয়ান, আনহুই এবং জিয়াংসু প্রদেশে অতিভারী বৃষ্টিপাতের ফলে নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে।
|