ইরান যুদ্ধে মার্কিন অস্ত্র মজুদে টান, দ্রুত উৎপাদনের তাগিদ পেন্টাগনের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সাথে চলমান দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রথম কয়েক মাসেই আমেরিকান বাহিনীর কাছে থাকা উচ্চপ্রযুক্তির সমরাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা মিসাইলের মজুদ মারাত্মকভাবে ফুরিয়ে এসেছে।
এমন সংকটজনক পরিস্থিতিতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়িয়ে অবিলম্বে উৎপাদন বহুগুণ বাড়ানো এবং সরবরাহের গতি জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে পেন্টাগন।
শনিবার (৮ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এ ফাঁস হওয়া একটি গোপন মেমোর বরাতে এ তথ্য উন্মোচিত হয়।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, মার্কিন উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্টিভ ফেইনবার্গ শীর্ষ প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের কাছে পাঠানো জরুরি চিঠিতে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সমরাস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বহু গুণ বৃদ্ধি এবং সরবরাহের সময়সূচিকে আক্রমণাত্মক পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য ২১ দিনের মধ্যে নতুন রোডম্যাপ জমা দিতে হবে। ফেইনবার্গ চিঠিতে উল্লেখ করেন, "অস্ত্র তৈরির প্রচলিত দীর্ঘমেয়াদি প্রসেস এখন আর গ্রহণযোগ্য নয়; যুদ্ধের তাগিদে এখনই উৎপাদন সক্ষমতা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি করতে হবে।"
উন্মোচিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধের মাত্র প্রথম মাসেই যুক্তরাষ্ট্র ৮৫০টিরও বেশি টমাহক ক্রুজ মিসাইল এবং ১ হাজারের বেশি প্যাট্রিয়ট ও থাড ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সিএসআইএস (CSIS)-এর হিসাব মতে, যুদ্ধের কারণে মার্কিন বাহিনীর বিশ্বব্যাপী থাকা প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ আগের ২,২০০টি থেকে আশঙ্কাজনকভাবে কমে ৮২৭টিতে নেমে এসেছে। অন্যদিকে থাড (THAAD) মিসাইলের সংখ্যা ৪৫২টি থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ২৭৮টির নিচে।
অস্ত্রের এই ভয়াবহ ঘাটতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ মধ্যে চড়া অসন্তোষ তৈরি হলেও ট্রাম্প নিজের সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিকট পর্যাপ্ত যুদ্ধপণ্য রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা তৈরিও হচ্ছে।
তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই বোয়িং, লকহিড মার্টিন, নর্থরপ গ্রুম্যান ও পালানটিরের মতো প্রতিরক্ষা জায়ান্টগুলোর নির্বাহীদের সাথে বৈঠকে বসেছেন হোয়াইট হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তারা। ২০৩০ সালের মধ্যে মূল ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর উৎপাদন তিন গুণ বাড়াতে লকহিড মার্টিনের সাথে প্রায় ৫৮.৬ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি ত্বরান্বিত করছে পেন্টাগন। পেন্টাগনের মুখপাত্র জানান, আসন্ন ২০২৮ অর্থবছরের বাজেট প্রক্রিয়ায় অস্ত্র উৎপাদনের এই নতুন জরুরি নীতি বড় ভূমিকা রাখবে।
|