এমপিওভুক্তদের নিয়োগে নতুন শর্ত চাপিয়ে অধিকার বঞ্চিত করা যাবে না: হাইকোর্ট

প্রকাশ: সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪১ অপরাহ্ণ
এমপিওভুক্তদের নিয়োগে নতুন শর্ত চাপিয়ে অধিকার বঞ্চিত করা যাবে না: হাইকোর্ট
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি সংক্রান্ত আবেদনের বিষয়ে হাইকোর্টের রায়।

অনলাইন ডেস্ক: বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও কর্মচারীদের নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সময়সীমার প্রবিধান ও বিধিমালা বাতিল বা তোয়াক্কা না করে পরবর্তীতে তৈরি করা কোনো নতুন শর্ত বা প্রশাসনিক বিধি অতিক্রান্ত সময় থেকে কার্যকর দেখিয়ে তাদের আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা বেআইনি বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এমপিও থেকে বঞ্চিত চার শিক্ষকের করা এক বিশেষ রিটের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে উচ্চ আদালত এ যুগান্তকারী পর্যবেক্ষণ ও রায় প্রদান করেন। ‘মো. আবু হানিফ ও অন্যান্য বনাম রাষ্ট্র এবং অন্যান্য’ শীর্ষক উক্ত মামলার মূল রায়টি লিখেছেন বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি উর্মী রহমান, যা জ্যেষ্ঠ বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারের সম্মতিসহ পুর্ণাঙ্গ অনুলিপি হিসেবে সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে।

মামলার নথিসূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রবিধান অনুসরণ করে নাটোরের রোজি মোজাম্মেল মহিলা কলেজে অর্থনীতিসহ চার বিষয়ে প্রভাষক (তৃতীয় শিক্ষক) হিসেবে চারজন শিক্ষক যোগদান করেন। ২০২০ সালে কলেজটি এমপিওভুক্ত হলে মাউশির তালিকার অন্তর্ভুক্ত থাকা সত্ত্বেও ‘NTRCA সনদ নেই’—এমন অযুহাতে অনলাইনে তাদের এমপিও আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়। অথচ নিয়োগের সময় (২০১৫ সালে) ডিগ্রি (পাস) কোর্সের শিক্ষকদের জন্য এনটিআরসিএ সনদের এই বাধ্যবাধকতা ছিল না; যা ২০১৯ সালের প্রবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত স্পষ্টভাবে বলেন, "নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক প্রয়োজনে প্রবিধান পরিবর্তনের আইনি এখতিয়ার থাকলেও, তা কোনোভাবেই অতীতে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের অর্জিত অধিকার (Vested Right) ক্ষুণ্ন করতে পারে না। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয় হলেও যুক্তিসংগত আইনি ভিত্তি ছাড়া খেয়ালখুশিমতো কোনো আবেদন খারিজ করা সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের বরখেলাপ।"

চূড়ান্ত আদেশে হাইকোর্ট এনটিআরসিএ সনদের অযুহাতে চার প্রভাষকের এমপিও আবেদন প্রত্যাখ্যানের অনলাইন সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেন। একই সাথে রায়ের অনুলিপি প্রাপ্তির ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাস থেকে প্রযোজ্য সমুদয় বকেয়া বেতনসহ যাবতীয় আর্থিক সুবিধাদি পরিশোধ করার জন্য শিক্ষা সচিব ও মাউশিকে নির্দেশ প্রদান করেন।

মন্তব্য করুন