হাসিনা ও হাদির হত্যাকারীদের প্রত্যর্পণ ত্বরান্বিত করার তাগিদ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রকাশ: সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪৩ অপরাহ্ণ
হাসিনা ও হাদির হত্যাকারীদের প্রত্যর্পণ ত্বরান্বিত করার তাগিদ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

অনলাইন ডেস্ক: মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আদালতের রায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ ওসমান হাদির মূল হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে আনার আইনগত প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে নয়াদিল্লিকে দৃঢ়ভাবে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাতের পরপরই দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, "প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উত্থাপিত হয়েছে। আমরা তাদের স্পষ্ট বলেছি—আইনি হস্তান্তরের কাজটি দ্রুত শেষ করতে হবে। এ বিষয়ে ভারত সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।"

শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি বলেন, "এটি আমাদের জন্য একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। ভারত সরকার তাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে যে আইনি কাগজপত্র চেয়েছিল, তার সবই আমরা সরবরাহ করেছি। তাই আসামীদের আর দেরি না করে অবিলম্বে ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।"

ভারতের সাথে ৫ আগস্টের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে খলিলুর রহমান বলেন, "একটি রাষ্ট্রের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভের মধ্যে বিচার বিভাগ অন্যতম। বাংলাদেশের একটি আদালত দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে সাজা দিয়েছে। অথচ শেখ হাসিনা ভারতে বসে আমাদের বিচার বিভাগ তথা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়িয়েছেন এবং ভারত তা হতে দিয়েছে। আমরা চাই পৃথিবীর প্রতিটি দেশ আমাদের রাষ্ট্রীয় বিচার ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকুক। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরেছে এবং আমি আশ্বস্ত যে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।"

সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, উভয় দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সুফলের স্বার্থে একটি উপযুক্ত ও সুন্দর পরিবেশ তৈরির প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে এবং কূটনৈতিক চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে এসব বিষয়ের স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা চলমান রয়েছে।

মন্তব্য করুন