যুদ্ধের আবহে ইরান ও লেবাননে শোক ও প্রার্থনায় পবিত্র আশুরা পালন
ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহর কালো পোশাকে শোক পালন করছেন মানুষ। মসজিদ, হোসাইনিয়া ও রাজপথে সমবেত হয়ে তারা মাতম করেন। শহরের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রেখে স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে চা ও খাবার বিতরণ করা হয়েছে। আশুরার আগের সন্ধ্যায় ইমাম রুহুল্লাহ খোমেনীর মাজারে এক বিশাল শোকানুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। প্রেসিডেন্ট তার বার্তায় উল্লেখ করেন, “ইমাম হুসাইন আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শিক্ষা দিয়েছেন। আমরা যেন কাউকে অত্যাচার না করি, অত্যাচার মেনেও না নিই এবং অন্যায়ের সামনে নীরব না থাকি।”
লেবাননের উপকূলীয় শহর টায়ারে হিজবুল্লাহর হয়ে নিহত যোদ্ধা ও প্যারামেডিকদের পরিবারগুলো শোকসভায় অংশ নিয়েছেন। শহরের রাজপথগুলো ইমাম হুসাইনের নামে লাল-কালো ব্যানার ও ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে। ধর্মীয় বক্তারা কারবালার ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে বর্তমান সময়ের সংগ্রামের মিল তুলে ধরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে কারবালার প্রান্তরে উমাইয়া শাসকের প্রতি আনুগত্য স্বীকারে অস্বীকৃতি জানিয়ে পরিবার ও সঙ্গীদেরসহ শহীদ হয়েছিলেন ইমাম হুসাইন (রা.)। এই আত্মত্যাগ শিয়া মুসলিমদের কাছে অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে অবিচল প্রতিরোধের চিরন্তন প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
জান্নাত সকালবেলা
|