কিশোরগঞ্জে ৪১ লাখ টাকার অবৈধ জাল জব্দ
মো. মাইনুল হক, নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে একটি অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল তৈরির কারখানায় আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে আনুমানিক ৪১ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ অবৈধ চায়না জাল এবং জাল তৈরির কাজে ব্যবহৃত ৪টি বৈদ্যুতিক সেলাই মেশিন জব্দ করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মধ্য রাজীব সয়ার কাজীপাড়া এলাকায় এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুর রহমান। অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল সালাম, কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান এবং পুলিশ সদস্যরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাজীপাড়া এলাকার কালু মামুদের দুই ছেলে খলিল ও জলিল দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের বসতবাড়িতে গোপনে একটি অবৈধ চায়না জালের কারখানা গড়ে তুলেছিলেন। সেখানে নিষিদ্ধ কারেন্ট ও চায়না জাল তৈরি করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাজারজাত করা হতো।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল বিকেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থানা পুলিশ ও মৎস্য বিভাগকে সাথে নিয়ে ওই বাড়িতে হানা দেন। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে কারখানার মালিক খলিল ও জলিল কৌশলে পালিয়ে যান। পরে তল্লাশি চালিয়ে ঘর থেকে আনুমানিক ৪১ লাখ টাকা মূল্যের অবৈধ চায়না জাল ও জাল সেলাইয়ের ৪টি বৈদ্যুতিক মেশিন জব্দ করা হয়।
এদিকে মূল কারখানার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দুলু মিয়া নামে আরেক ব্যক্তির বাড়িতেও নিষিদ্ধ জাল মজুদের অপরাধে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তাঁর বাড়ি থেকে অবৈধ জাল উদ্ধার করা হয় এবং মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইনে দুলু মিয়াকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আরিফুর রহমান জানান, জব্দকৃত নিষিদ্ধ চায়না জালগুলো জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করার প্রক্রিয়া চলছে এবং সেলাই মেশিনগুলো মৎস্য বিভাগের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। দেশীয় মৎস্য সম্পদ রক্ষার্থে নিষিদ্ধ জালের উৎপাদন ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে এই ধরনের কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এআইএল/সকালবেলা
|