ছেলেরা সঠিকভাবে গড়ে উঠলে মেয়েরা নিরাপদ থাকবে: শেফালি শাহ
বিনোদন ডেস্ক :বর্তমান সমাজে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সন্তানদের সঠিক নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে বড় করে তোলার বিষয়ে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী শেফালি শাহ। সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত ইউটিউবার ও ইনফ্লুয়েন্সার লিলি সিং–এর একটি জনপ্রিয় পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি মাতৃত্ব, সন্তান প্রতিপালন এবং বর্তমান সময়ের তথাকথিত ‘আলফা মেল’ বিতর্ক নিয়ে নিজের স্পষ্ট চিন্তাভাবনা শেয়ার করেন।
বলিউডের প্রভাবশালী পরিচালক বিপুল অমৃতলাল শাহ ও শেফালি শাহ দম্পতির দুই ছেলে রয়েছে আর্যমান শাহ ও মৌর্য শাহ। ছেলেদের একজন ভালো ও সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে অভিনেত্রী বলেন, “আমাদের সমাজকে যদি নারীদের জন্য নিরাপদ করতে হয়, তবে সবার আগে আমাদের ছেলেদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে। ছেলেরা যদি সঠিক মূল্যবোধ নিয়ে বড় হয়, তবেই আমাদের মেয়েরা প্রাকৃতিকভাবে নিরাপদ থাকবে।”
সন্তানদের নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আমি আমার ছেলেদের খুব সহজ কিন্তু গভীর একটি বিষয় শেখানোর চেষ্টা করেছি। তা হলো তুমি নিজে সমাজ বা অন্য কোনো মানুষের কাছ থেকে যেমন ভদ্র ও সম্মানজনক আচরণ আশা করো, ঠিক তেমন আচরণই সর্বদা অন্যদের সঙ্গেও করো। বিষয়টি খুবই সাধারণ। এর চেয়ে বেশি কিছু নয়, আবার কমও নয়। তুমি যদি নিজে কারও কাছ থেকে কোনো খারাপ বা অপমানজনক আচরণের শিকার হতে না চাও, তাহলে অন্য কোনো মানুষের সঙ্গেও তোমার তেমন আচরণ করা একেবারেই উচিত নয়।”
পডকাস্টে মাতৃত্বের জার্নি ও সন্তান প্রতিপালনের কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে অকপট কথা বলেন এই শক্তিমান অভিনেত্রী। তাঁর ভাষ্য, “আমি মা হিসেবে সফল হতে পেরেছি কি না, সেটা হয়তো এখনই বলা সম্ভব নয়। এটা তখনই বুঝতে পারব, যখন আমার ছেলেদের বয়স ৩০ বছর পার হবে। তারা এখন বড় হচ্ছে এবং চারপাশের পৃথিবী দেখে নিজেদের একটি স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করছে। এই বয়সে সন্তানরা সাধারণত বাবা-মায়ের সব কথা বা সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চায়, অনেক বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে। আমি মনে করি, এটা তাদের স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠারই একটা সুন্দর অংশ।”
সন্তানদের ভবিষ্যৎ আচরণের দায় প্রসঙ্গে শেফালি শাহ বলেন, “ভবিষ্যতে তারা যদি কখনো কোনো ভুল বা খারাপ আচরণ করে, তবে একজন মা হিসেবে তার পুরো দায় বা দোষ আমি নিজের ঘাড়ে নিতে পারি না। কারণ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হিসেবে তাদের নিজস্ব চিন্তা, ভালো-মন্দ বিচার এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্পূর্ণ স্বাধীন ক্ষমতা রয়েছে। তবে মা হিসেবে আমি আমার সাধ্যের সর্বোচ্চ সেরাটা দিয়ে তাদের একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমি অন্তত সমাজ সচেতন ও ভদ্র মানুষ হিসেবে তাদের বড় করতে পেরেছি।”
জান্নাত সকালাবেলা
|