শৈশবে আপত্তিকর স্পর্শের শিকার হয়েছিলেন প্রিয়ন্তী উর্বী
বিনোদন প্রতিবেদক : কিছু ঘটনা মানুষ আসলে কোনোদিন ভুলে যায় না, শুধু একসময় চুপ করে বাঁচতে শিখে যায়। আমিও হয়তো সেই চুপ করে বাঁচাটাই শিখেছিলাম। তাই নিজেকে সবসময় কাজের মধ্যে ব্যস্ত রাখি, যেন মাথার ভেতরের তীব্র যন্ত্রণাদায়ক শব্দগুলো একটু শান্ত থাকে।” আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক অত্যন্ত আবেগঘন ও মনস্তাত্ত্বিক পোস্টে নিজের শৈশবের এক ভয়াবহ ও অন্ধকার অভিজ্ঞতার কথা এভাবেই তুলে ধরেছেন উদীয়মান জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রিয়ন্তী উর্বী।
সম্প্রতি রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী এক নিষ্পাপ কন্যাশিশুকে ধর্ষণের পর অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় পুরো দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় বইছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন অঙ্গনের মানুষের মতো বিনোদন জগতের একঝাঁক তারকাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোচ্চার হয়েছেন। আর সেই নির্মম হত্যাকাণ্ডের নির্মমতার প্রসঙ্গ টেনেই নিজের শৈশবের অন্তরালে থাকা এক ট্রমাটিক অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন উর্বী।
ফেসবুক পোস্টে প্রিয়ন্তী উর্বী নিজের ভেতরের চাপা কষ্ট উগরে দিয়ে লিখেছেন, “যখনই দেশের কোথাও কোনো শিশুর ওপর হওয়া অ্যাবিউজ (নির্যাতন) কিংবা রেপের (ধর্ষণ) খবর আমার চোখে পড়ে, আমি ভেতর থেকে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ি। কারণ, ছোটবেলায় কোমল বয়সে আমিও ইনঅ্যাপ্রোপিয়েট টাচ বা আপত্তিকর স্পর্শের শিকার হয়েছিলাম।”
শৈশবের সেই অস্বস্তিকর ও ভীতি জড়ানো স্মৃতির কথা স্মরণ করে এই অভিনেত্রী আরও বলেন, “তখন বয়স এতই কম ছিল যে ঠিক কী হচ্ছে বা আমার সাথে কী করা হচ্ছে, তা বোঝার মতো ম্যাচিউরিটি আমার ছিল না। শুধু মনে হতো, এই স্পর্শটা আর যাই হোক স্বাভাবিক না। কারণ আব্বু-আম্মু তো আমাকে কখনো এভাবে ধরেনি বা স্পর্শ করেনি। আজ যখন পেছনের দিকে তাকাই, তখন ভাবি মাত্র ৪ থেকে ৫ বছরের একটা নিষ্পাপ বাচ্চার মনে এই ধরনের ঘটনা থেকে কতটা গভীর ভয় আর আতঙ্ক ঢুকে যায়। কত প্রশ্ন, কত তীব্র অস্বস্তি আর কত না-বলা কান্না জমে থাকে বছরের পর বছর।”
উর্বীর মতে, এই ধরনের নেতিবাচক ও বিকৃত অভিজ্ঞতা একটি শিশুর স্বাভাবিক মনস্তাত্ত্বিক বিকাশ, চারপাশের মানুষের প্রতি বিশ্বাস এবং চিরন্তন নিরাপত্তাবোধে দীর্ঘস্থায়ী ও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই সমাজ থেকে এই ধরনের পৈশাচিক মানসিকতা দূর করতে এবং শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতনের মতো প্রতিটি অপরাধের দ্রুত ও কঠোরতম বিচার হওয়া আজ সময়ের দাবি।
পোস্টের শেষ অংশে অপরাধীদের পরকালের শাস্তির দিকে ইঙ্গিত করে উর্বী লিখেছেন, “আমি আজও মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি, এই সমস্ত রেপিস্ট আর চাইল্ড অ্যাবিউজারদের দৃষ্টান্তমূলক কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত। কারণ, তারা শুধু একটা মানুষের শরীরকে আঘাত করে না, বরং একটা শিশুর বেঁচে থাকার আদিম যে নিরাপত্তাবোধ, মানুষের প্রতি বিশ্বাস আর সুন্দর শৈশবটাকেই চিরতরে মেরে ফেলে। তবে একটা জিনিস আমি খুব দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি— মানুষের খারাপ কর্মের ফল বা পাপের শাস্তি একদিন না একদিন এই পৃথিবীতেই প্রকৃতি ও সৃষ্টিকর্তার নিয়মে ফিরে আসে। আল্লাহ সব দেখছেন এবং সবকিছুর হিসাব তিনি রাখছেন।” অভিনেত্রীর এই সাহসী ও হৃদয়বিদারক স্বীকারোক্তির পর বিনোদন অঙ্গনসহ তাঁর ভক্ত মহলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ আরও তীব্রতর হচ্ছে।
জান্নাত সকালাবেলা
|