অস্কারজয়ী প্রথম আইরিশ অভিনেত্রী ব্রেন্ডা ফ্রিকার আর নেই
বিনোদন ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয় ‘হোম অ্যালোন ২: লস্ট ইন নিউইয়র্ক’ এবং ‘মাই লেফট ফুট’ সিনেমার মাধ্যমে কোটি দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া অস্কারজয়ী আইরিশ কিংবদন্তি অভিনেত্রী ব্রেন্ডা ফ্রিকার আর নেই। গত ১৬ জুলাই আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনের এই উজ্জ্বল নক্ষত্র।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতা ও অসুস্থতায় ভুগছিলেন।
ব্রেন্ডা ফ্রিকারের প্রয়াণে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গন, সহকর্মী এবং তাঁর বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ভক্তদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর দীর্ঘদিনের এজেন্ট ফিল বেলফিল্ড এক আবেগঘন বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা তাঁর মতো প্রতিভাবান ও অনন্য কাউকে আর কখনও চলচ্চিত্র অঙ্গনে দেখতে পাব না।’
চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ব্রেন্ডা ফ্রিকারের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে তাঁর ১৯৯০ সালের অনবদ্য অর্জনের জন্য। ‘মাই লেফট ফুট’ সিনেমায় ক্রিস্টি ব্রাউনের মায়ের চরিত্রে এক অসাধারণ ও হৃদয়স্পর্শী অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে অস্কার (একাডেমি অ্যাওয়ার্ড) জেতেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে তিনি ইতিহাসের প্রথম আইরিশ অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার জয়ের গৌরবময় কৃতিত্ব গড়েন। এই কালজয়ী চলচ্চিত্রে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন কিংবদন্তি অভিনেতা ড্যানিয়েল ডে-লুইস।
রূপালি পর্দায় সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করলেও, ব্রেন্ডার ব্যক্তিগত জীবন ছিল ভীষণ ট্র্যাজিক ও বেদনাবিধুর। একের পর এক কঠিন ও নির্মম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। সম্প্রতি প্রকাশিত তাঁর আত্মজীবনী ‘শি ডায়েড ইয়াং: আ লাইফ ইন ফ্র্যাগমেন্টস’-এ তিনি নিজের জীবনের নানা অন্ধকার ও বেদনাদায়ক অধ্যায়ের কথা অকপটে তুলে ধরেন। সেই বইয়ে কিশোরী বয়সে ধর্ষণের শিকার হওয়া, পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিক যৌন নিপীড়ন, শৈশবের নির্যাতন এবং মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত দীর্ঘ সংগ্রামের যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতিকথা প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী। এমনকি বৈবাহিক জীবনেও তাঁকে একাধিকবার গর্ভপাতের তীব্র মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছিল। তিনি জানান, একটি গর্ভপাতের পর সৃষ্ট জটিলতার কারণে চিকিৎসকদের বাধ্য হয়ে তাঁর জরায়ু অপসারণ করতে হয়েছিল।
প্রায় সাত দশকের দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ অভিনয়জীবনে ব্রেন্ডা ফ্রিকার ৯০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন সিরিজে অভিনয় করেছেন। বিশ্বজুড়ে নব্বইয়ের দশকের দর্শকদের কাছে ‘হোম অ্যালোন ২’ সিনেমায় সেন্ট্রাল পার্কের সেই ‘পিজন লেডি’ (পায়রাওয়ালী) চরিত্রটি আজও এক আবেগ ও চিরস্মরণীয় নাম। এ ছাড়া ‘অ্যাঞ্জেলস ইন দ্য আউটফিল্ড’, ‘এ টাইম টু কিল’, ‘ভেরোনিকা গেরিন’ এবং ‘আলবার্ট নোবস’-এর মতো অসংখ্য প্রশংসিত চলচ্চিত্রে নিজের অভিনয় দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন এই গুণী আইরিশ অভিনেত্রী।
|