কোটালীপাড়ায় দেবরের বিরুদ্ধে ভাবিকে মারধরের অভিযোগ
কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় পুরনো জমিজমা সংক্রান্ত শত্রুতা ও গবাদিপশু চড়ানোর ঘটনার জেরে আপন দেবরের বিরুদ্ধে ওনার ভাবিকে একা পেয়ে মারধর ও লাঞ্ছিত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বর্বরোচিত এই ঘটনার প্রতিকার ও সুষ্ঠু বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী গৃহবধূ কোটালীপাড়া থানায় একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
গত শনিবার (১৮ জুলাই) উপজেলার পিঞ্জরী ইউনিয়নের গোয়ালংক গ্রামে এই মারধরের ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোয়ালংক গ্রামের বাসিন্দা রুঙ্গু ঘরামীর স্ত্রী কাজুলী বেগম গত শনিবার বাড়ির পাশের একটি ফাঁকা জায়গায় নিজেদের গবাদিপশু নিয়ে ঘাস খাওয়াতে যান। এ সময় রুঙ্গু ঘরামীর ছোট ভাইয়ের স্ত্রী শামসুন্নাহার বেগম সেখানে এসে ওনাদের নিজস্ব জায়গা দাবি করে সেখান থেকে দ্রুত গবাদিপশু সড়িয়ে নিতে বলেন। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে এক পর্যায়ে দুই জা কাজুলী বেগম ও শামসুন্নাহার বেগমের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও ঝগড়াঝাটি বাঁধে। ঝগড়া চলাকালীন একপর্যায়ে রুঙ্গু ঘরামীর ছোট ভাই কাইয়ুম ঘরামী লাঠিসোটা নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং ওনার ভাবি কাজুলী বেগমকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন।
নৃশংসতার শিকার ভুক্তভোগী কাজুলী বেগম ওনার ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে দেবর কাইয়ুম ঘরামীর সাথে আমাদের পৈত্রিক জমিজমা নিয়ে তীব্র বিরোধ ও মামলা চলে আসছিল। আমার দুই ছেলে বর্তমানে জীবিকার তাগিদে প্রবাসে থাকে এবং একমাত্র মেয়ে পড়াশোনার জন্য বাড়ির বাইরে থাকে। আমি আমার অসুস্থ ও বৃদ্ধ স্বামীকে নিয়ে বাড়িতে একা থাকি। এই পারিবারিক অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে কাইয়ুম ঘরামী আমাকে একা পেয়ে বহিরাগত লোকজন নিয়ে অতর্কিত হামলা ও মারধর করেছে। আমি প্রশাসনের কাছে কাইয়ুম ঘরামীর দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।"
অন্যদিকে, মারধরের সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে অভিযুক্ত দেবর কাইয়ুম ঘরামী বলেন, "আমার স্ত্রী শামসুন্নাহার বেগমের সাথে ওনার সামান্য ঝগড়া লেগেছিল। আমি কেবল ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনের ঝগড়া থামিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছি। আমি আমার ভাবিকে কোনো ধরনের মারধর বা আঘাত করিনি। জমিজমা বিরোধের কারণে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে।"
এ বিষয়ে কোটালীপাড়া থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) সুব্রত দাস গণমাধ্যমকে জানান, “দুই পক্ষের মারধরের ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
|